শিমলা: টানা প্রায় তিন মাসের খরার মতো পরিস্থিতির পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল পাহাড়। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে হিমাচল প্রদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বৃষ্টি ও তুষারপাত। শিমলা, মানালি, নারকাণ্ডা, কুফরি, চাইল, ডালহৌসি ও কালপা—সবই এখন সাদা বরফের চাদরে মোড়া। একই ছবি জম্মু–কাশ্মীর ও উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য এলাকাতেও।

হিমাচলে মরসুমের প্রথম তুষারপাত
শিমলা জেলা-সহ উঁচু পার্বত্য এলাকাগুলিতে এই মরসুমের প্রথম তুষারপাত হয়েছে। অন্যদিকে নিচু এলাকায় হয়েছে টানা বৃষ্টি। শিমলা, চাম্বা, কুল্লু, লাহুল-স্পিতি ও কিন্নৌরে রাতভর জোরালো হাওয়ার সঙ্গে ভারী তুষারপাত চলে। আবহাওয়া দফতর শিমলার তরফে একাধিক এলাকায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট ও কিছু জায়গায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দুর্ভোগ বাড়লেও স্বস্তি কৃষক ও পর্যটনে
তুষারঝড়ের জেরে বহু জায়গায় রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এই বৃষ্টি ও তুষারপাত কৃষক, উদ্যানপালক এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মুখে হাসি ফিরিয়েছে। রিজ ও মল রোডে বরফে মেতেছেন বহু পর্যটক।

জম্মু–কাশ্মীরে বন্ধ জাতীয় সড়ক
শুক্রবার জম্মু অঞ্চলের উঁচু এলাকাগুলিতে ভারী তুষারপাতের ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় সড়ক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাহাড়ি জেলার স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
বৈষ্ণো দেবীতে তুষার, স্থগিত তীর্থযাত্রা
ত্রিকূট পাহাড়ের উপর অবস্থিত মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরেও মরসুমের প্রথম তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র ঠান্ডা ও বরফ জমার কারণে সাময়িকভাবে তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখা হয়। রামবান, ডোডা, কিশতওয়ার, পুঞ্চ, রাজৌরি, রিয়াসি, উধমপুর ও কাঠুয়া জেলার উঁচু এলাকায় এখনও তুষারপাত চলছে। কোথাও পাঁচ ইঞ্চি, কোথাও এক ফুটেরও বেশি বরফ জমেছে।

উত্তরাখণ্ডে বরফে মোড়া মুসৌরি
উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য এলাকাতেও শুক্রবার ভোরে আচমকা আবহাওয়ার বদল ঘটে। মুসৌরিতে মরসুমের প্রথম তুষারপাতের ফলে পাহাড়, রাস্তা ও পাইন গাছ বরফে ঢেকে যায়। মুসৌরি, ধানৌলটি, চাকরাতা, আউলি, গঙ্গোত্রী ও তেহরির বিস্তীর্ণ এলাকায় দফায় দফায় তুষারপাত হয়। মনোরম দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে।
পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
ভারী তুষারপাতের কারণে পাহাড়ি রাস্তায় পিচ্ছিল অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের অপ্রয়োজনে উঁচু এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং আবহাওয়ার আপডেট দেখে ভ্রমণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ খরা ও শুষ্ক আবহাওয়ার পর স্বস্তির বৃষ্টি ও তুষারপাত উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে। হিমাচল প্রদেশ, জম্মু–কাশ্মীর ও উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় মরসুমের প্রথম তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একদিকে যেমন কৃষক ও পর্যটন ব্যবসায় স্বস্তি, তেমনই ভারী তুষারপাতের জেরে রাস্তা বন্ধ ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট। পর্যটকদের জন্য একাধিক সতর্কতাও জারি করেছে প্রশাসন।












