মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল স্পেন। বলের দখল, সুযোগ তৈরি—সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা মিলছিল না। এরই মধ্যে স্পেনের দুটি গোল বাতিল হওয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে একমাত্র গোলেই ট্রফি জিতে নেয় স্প্যানিশরা, যদিও ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে ছিল রেফারির সিদ্ধান্ত।
দুই গোল বাতিল, বিতর্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেই বড় বিতর্কের জন্ম দেয় স্পেনের প্রথম বাতিল হওয়া গোল।স্পেনের আক্রমণে বল আর্জেন্টিনার বক্সে পৌঁছলে মিকেল মেরিনোর সঙ্গে ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির সংস্পর্শ হয়। সেই মুহূর্তের পর বল নিকো উইলিয়ামসের সামনে চলে আসে এবং তিনি সহজেই জালে বল পাঠান।তবে গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করে দেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, মেরিনোর পা ওতামেন্দির পায়ে স্পর্শ করেছিল। রেফারি সেটিকেই ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেন।
স্পেনের দাবি, ফাউলের সিদ্ধান্ত ছিল কঠোর
স্প্যানিশ ফুটবলারদের মতে, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সংস্পর্শ খুবই সামান্য ছিল এবং ওতামেন্দি ঘটনাটিকে বাড়িয়ে দেখিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে গোল বাতিল করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কঠোর ছিল।এই সিদ্ধান্তে স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। অনেকের মতে, গোলটি বহাল থাকলে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত না।
ভিএআরে ধরা পড়ল অফসাইড
প্রথম বিতর্ক কাটতে না কাটতেই ফেররান তোরেসও বল জালে পাঠান। কিন্তু এবার ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) অফসাইড শনাক্ত করে গোলটি বাতিল করে দেয়।এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশেষ বিতর্ক না হলেও, একই ম্যাচে স্পেনের দ্বিতীয় গোল বাতিল হওয়ায় ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
শেষ হাসি স্পেনের
দুটি গোল বাতিল হলেও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা।এর ফলে ২০১০ সালের পর দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন।
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে স্পেনের দুটি বাতিল হওয়া গোল। একটি ফাউলের অভিযোগে এবং অন্যটি অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় রেফারিং নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।









