গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে আইনি সংঘাত তৈরি হল। যোগ্য তালিকা প্রকাশের নির্দেশ এবং বয়সে ছাড় দেওয়ার হাইকোর্টের রায় মানতে নারাজ স্কুল সার্ভিস কমিশন। তাই তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন নিল কমিশন। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং প্রত্যাশা—উভয়ই চরমে।
হাইকোর্টের নির্দেশে অস্বস্তি, তাই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ কমিশন
২০১৬ সালের গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যাঁরা ‘যোগ্য’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন, তাঁদের নাম প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। শুধু তালিকা প্রকাশ নয়, চলতি নিয়োগ পরীক্ষায় এই ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের বয়সে ছাড় দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। কমিশনের মতে, এই নির্দেশ কার্যকর হলে নতুন নিয়োগ কাঠামো বিঘ্নিত হতে পারে। তাই এসএসসি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যায় এবং হাইকোর্টের রায় স্থগিত রাখার আবেদন জানায়।
৩ ডিসেম্বরের নির্দেশ কেন বিতর্কে?
বিচারপতি অমৃতা সিনহা ৩ ডিসেম্বর ২০২৫-এ যে নির্দেশ দেন, তার মূল বক্তব্য ছিল—
গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগে যাঁরা ‘নির্দিষ্টভাবে অযোগ্য’ ঘোষণা হননি, তাঁদের সম্ভাব্য যোগ্য তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
চলতি নিয়োগ পরীক্ষায় এই প্রার্থীরা বয়সজনিত ছাড় পাবেন।
যারা ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন এবং যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন, তাঁরাও বয়স ছাড়ের সুবিধা পাবেন।
এই নির্দেশের জেরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে বদলে যেতে পারে বলে মনে করছে কমিশন। তাই হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যোগ্য তালিকা এখনও প্রকাশ নয়, বাড়ছে প্রশ্ন
হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল ৮ ডিসেম্বরের আগে যোগ্য তালিকা প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই তালিকা প্রকাশ করেনি এসএসসি। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে—যোগ্য নির্ধারণে যে নথিগত যাচাই-বাছাই প্রয়োজন, তা বিশাল পরিসরের হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সম্ভব নয়।অন্যদিকে, চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন—অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা গেল, কিন্তু যোগ্যদের তালিকা কেন নয়? একাংশের দাবি, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রক্রিয়া দেরি করছে যাতে আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হয়।
অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশে আগেই আলোড়ন
এর আগেই ৩,৫১২ জন ‘দাগি’ বা অনিয়মে যুক্ত শিক্ষাকর্মীর নাম প্রকাশ করেছিল এসএসসি। গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তে এই নামগুলি চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। হাইকোর্ট জানায়—যাঁরা দাগি নন, অথচ যোগ্য বলে বিবেচিত, তাঁদের নাম প্রকাশ বাধ্যতামূলক। এই তালিকাই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
চলতি সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা, উত্তেজনায় চাকরিপ্রার্থীরা
সুপ্রিম কোর্টে এসএসসির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, হাইকোর্টের রায় কার্যকর হলে শূন্য পদের পুনরায় নির্ধারণ, বয়স ছাড়ের নীতি বদল, পরীক্ষার সময়সূচি সংশোধন—সব কিছু নতুন করে ভাবতে হবে। তাই জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি শোনা প্রয়োজন।চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ মনে করছেন—হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল থাকলে অনেকেই নতুন করে সুযোগ পাবেন। কিন্তু মামলা সুপ্রিম কোর্টে গড়ালে নিয়োগ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। এর আগেও বহুবার নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনি জটিলতায় আটকে গিয়েছিল। ফলে এবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা
আইনজীবী মহলের মতে, এসএসসির আবেদন যদি গৃহীত হয়, তবে হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত থাকবে। এতে যোগ্য তালিকা প্রকাশ আটকাতে পারে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ যেহেতু স্পষ্ট ও যুক্তিযুক্ত, তাই আবেদন খারিজও হতে পারে। তবে যেভাবেই হোক, এই মামলা নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১৬ সালের গ্রুপ সি–ডি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ ও বয়সে ছাড় দেওয়ার হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। বিচারপতি অমৃতা সিনহার রায় বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আবেদন জমা পড়েছে। চলতি সপ্তাহেই শুনানি হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।












