দীর্ঘ টালবাহানা, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার অবসান। অবশেষে West Bengal School Service Commission–এর কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একাদশ-দ্বাদশ স্তরে শিক্ষক নিয়োগের প্রথম দফার শেষ দিনে ১৭২ জন চাকরিপ্রার্থী হাতে পেলেন বহু প্রতীক্ষিত সুপারিশপত্র। কারও মুখে উচ্ছ্বাস, কারও চোখে জল—আনন্দের মধ্যেও রয়ে গেল ভবিষ্যৎ নিয়ে দোলাচল।

কড়া নিরাপত্তায় সুপারিশপত্র বিতরণ
কাউন্সেলিং কেন্দ্রে ছিল কড়া নজরদারি। ইন্টিমেশন লেটার ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পরেই প্রবেশাধিকার মিলেছে প্রার্থীদের। প্রথম শিফটে যাঁরা সুপারিশপত্র পেয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই ফ্রেশার্স ক্যান্ডিডেট। মেধাতালিকা প্রকাশের প্রায় একমাস পর অবশেষে হাতে এল সরকারি সিলমোহরযুক্ত কাগজ।
স্বামীর সাফল্যে আবেগঘন অরুন্ধতী
লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন নতুন চাকরিপ্রার্থী অরুন্ধতী মল্লিক। মুখে উজ্জ্বল হাসি, তবে চোখে জল। জানালেন, তাঁর স্বামী সায়াং দাস অ্যাকাউন্টেন্সি বিষয়ে সুপারিশপত্র পেয়েছেন। বিয়ের পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম সরকারি পরীক্ষা। “নতুন পরীক্ষার্থী হিসেবেই চাকরি পেল,”—বলতে বলতেই আবেগ সামলাতে পারেননি অরুন্ধতী।নিজেও কমার্সে ওয়েটিং-এ রয়েছেন তিনি। চাকরিহারাদের জন্য অতিরিক্ত নম্বর এবং নতুনদের সুযোগ—দু’পক্ষের ভারসাম্য বজায় রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় কাটেনি।

আনন্দের মধ্যেও ভয়-উৎকণ্ঠা
অপর প্রার্থী স্নেহাস্মি লাহার কথায়, “খুব ভালো লাগছে, তবে একটু ভয়ও হচ্ছে—কী হবে সামনে?” নতুন শিক্ষিকা প্রিয়া মণ্ডলও একই সুরে বললেন, এখন দেখার নিয়োগপত্র কবে হাতে আসে। উচ্ছ্বাসের মাঝেই অনিশ্চয়তার ছায়া স্পষ্ট।
৭ বিষয়ের কাউন্সেলিং, ১৭২ জনের সুপারিশ
এসএসসি সূত্রে খবর, রাজ্যের কাছ থেকে জাতিভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা পাওয়ার পরই কাউন্সেলিং শুরু হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার মিলিয়ে সাতটি বিষয়ের প্রথম পর্যায়ের কাউন্সেলিংয়ে ১৭২ জন সফল প্রার্থী সুপারিশপত্র পেয়েছেন। মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

অবশেষে শুরু হল একাদশ-দ্বাদশ স্তরের এসএসসি কাউন্সেলিং। প্রথম পর্যায়ে ১৭২ জন সফল প্রার্থী হাতে পেলেন সুপারিশপত্র। নতুন ও পুরনো মিলিয়ে ভবিষ্যতের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মুখে হাসি ফুটলেও উঁকি দিচ্ছে উৎকণ্ঠা। স্বামী সায়াং দাসের চাকরি পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা অরুন্ধতী মল্লিকের চোখেও জল।








