স্ট্যাটিন ওষুধে কিডনির ঝুঁকি! দীর্ঘদিন কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধে বাড়ছে বিপদ—গবেষণায় চাঞ্চল্য

কোলেস্টেরল কমানোর স্ট্যাটিন ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে—Johns Hopkins-এর গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানুন বিস্তারিত।

হার্টের রোগ ঠেকাতে যে ওষুধ ভরসা, সেই স্ট্যাটিনই কি নিঃশব্দে কিডনির ক্ষতি করছে? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, দীর্ঘদিন ব্যবহারে এই ওষুধ কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফলে চিকিৎসা জগতে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক ও সতর্কতার আলোচনা।

স্ট্যাটিন: কোলেস্টেরল কমানোর প্রধান অস্ত্র

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে স্ট্যাটিন ওষুধ দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকদের প্রথম পছন্দ। এটি লিভারের এমন একটি এনজাইমকে বাধা দেয়, যা শরীরে কোলেস্টেরল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এই ওষুধ কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

গবেষণায় উঠে এল নতুন আশঙ্কা

আমেরিকার Johns Hopkins Bloomberg School of Public Health-এর গবেষক ডা. জুং-ইম শিনের নেতৃত্বে হওয়া এক সমীক্ষায় এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসে। প্রায় ৪০,০০০ রোগীকে গড়ে ৮.৪ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদে স্ট্যাটিন গ্রহণের সঙ্গে কিডনি সমস্যার একটি পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্ট

এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Journal of the American Society of Nephrology-এ। গবেষণায় জানানো হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে স্ট্যাটিন কিডনির জন্য উপকারী হলেও দীর্ঘ ব্যবহারে বিপরীত প্রভাব দেখা দিতে পারে।

কোন কোন কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে?

গবেষণায় তিনটি গুরুতর কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে—

অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি (AKI): হঠাৎ কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৩০% বেশি

ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD): দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যার ঝুঁকি ৩৬% পর্যন্ত বৃদ্ধি

কিডনির প্রদাহ: নেফ্রাইটিস বা রেনাল স্ক্লেরোসিসের ঝুঁকি প্রায় ৩৫% বেশি

বিশেষত, উচ্চমাত্রায় স্ট্যাটিন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে কিডনি ফেলিওরের আশঙ্কা প্রায় ১৫% পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

তবে কি স্ট্যাটিন বন্ধ করা উচিত?

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই গবেষণা স্ট্যাটিনকে সরাসরি দায়ী করছে না। এটি শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক নির্দেশ করছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে। বরং নিয়মিত চেকআপ ও ডোজ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

গবেষকরা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে বাস্তব জীবনে দীর্ঘ ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে স্ট্যাটিন ব্যবহারের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করা জরুরি।

কোলেস্টেরল কমাতে বহুল ব্যবহৃত স্ট্যাটিন শ্রেণীর ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে কিডনির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গবেষণায়। যদিও তা সরাসরি কারণ নয়, তবুও সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

Leave a comment