সুলতানপুরে শোহদায়ে ইসলাম কনফারেন্স ও উরস শ্রদ্ধা ও উৎসাহের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় আলেমরা সমাজে শিক্ষা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা মাওলানা সাইফুল্লাহ আলিমি যুবসমাজকে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে যুবকদের শিক্ষাকেই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমাজের অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন তরুণরা উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশের মর্যাদাপূর্ণ সেবা, যেমন IAS, IPS এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদে পৌঁছাবে। তিনি যুবকদের কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা শুধু কর্মসংস্থানের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ ও দেশের সেবার সবচেয়ে কার্যকর পথ। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি যুবকদের চরিত্র, আচরণ ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
কনফারেন্সে উপস্থিত অন্যান্য উলামা ও বক্তারাও সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ এবং শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং যুবকদের মাদক, অপরাধ ও সামাজিক কুপ্রথা থেকে দূরে থাকার বার্তা দেন।
উরস উপলক্ষে আকিদতমন্দরা দরগাহে উপস্থিত হয়ে চাদরপোশি করেন এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের উন্নতির জন্য দোয়া করেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মানুষ, সমাজকর্মী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিকরাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং সমাজে শিক্ষা, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগও সৃষ্টি করে।
আয়োজকদের মতে, প্রতিবছর আয়োজিত এই অনুষ্ঠান এলাকায় সামাজিক ও ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ বছরও বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দেশের শান্তি, উন্নয়ন এবং সমাজের সমৃদ্ধির জন্য দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।











