সকাল থেকেই চড়া রোদ, তার উপর আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি— গরমে কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা রাজ্যবাসীর। এই পরিস্থিতিতে শরীর সুস্থ রাখতে খাদ্যাভ্যাসে বদল আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বাংলার ঐতিহ্যবাহী পান্তা ভাতই হতে পারে গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার অন্যতম সেরা উপায়। পাশাপাশি কিছু সহজ খাবার ও পানীয় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ‘সুপারফুড’ পান্তা ভাত
প্রচণ্ড গরমে ভারী ও তেলমশলাযুক্ত খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তোলে। তাই সকালে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে পান্তা ভাত।পুষ্টিবিদদের মতে, সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখা ভাতে প্রাকৃতিকভাবে কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমে সাহায্য করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। একইসঙ্গে এটি শরীরে জলের ঘাটতি পূরণেও কার্যকরী। ফলে রোদে বেরনোর আগে পান্তা ভাত খেলে দীর্ঘক্ষণ শরীর সতেজ থাকে।
ডাবের জল ও লেবুর শরবতই ‘প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট’
নিউট্রিশনিস্ট গোপা নাগ দে জানিয়েছেন, গরমকালে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত ১ থেকে ২ গ্লাস জল খাওয়া জরুরি।তিনি বলেন, ডাবের জল, নুন-চিনি মেশানো লেবুর শরবত কিংবা ঠান্ডা ঘোল শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে রোদ থেকে ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ডাবের জল খেলে ক্লান্তি দ্রুত কাটে।
কোল্ড ড্রিংকস নয়, বাড়ান প্রাকৃতিক পানীয়ের উপর ভরসা
অনেকেই গরমে তৃষ্ণা মেটাতে সফট ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত জুসের উপর নির্ভর করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত এই পানীয়গুলো সাময়িক স্বস্তি দিলেও শরীরকে আরও দ্রুত ডিহাইড্রেটেড করে তোলে।একইভাবে অতিরিক্ত চা বা কফিও ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ ক্যাফেইন শরীর থেকে জল বের করে দেয়। তাই গরমের দিনে বেলের শরবত, আমপোড়ার শরবত কিংবা লেবুর জল অনেক বেশি উপকারী।

তরমুজ, শশা ও কলা রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়
গরমে জলসমৃদ্ধ ফল খাওয়ার উপরও জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তরমুজ ও শশায় ৯০ শতাংশেরও বেশি জল থাকে, যা শরীরকে দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।অন্যদিকে কলায় থাকা পটাশিয়াম ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়া খনিজের ঘাটতি পূরণ করে। ফলে দুর্বলতা ও ক্লান্তি কমে। পাকা পেঁপেও গরমে হজম ভালো রাখতে কার্যকরী বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাইরে বেরোনোর আগে মানতেই হবে এই নিয়ম
তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
খালি পেটে বাইরে বের হবেন না
সঙ্গে জল বা ওআরএস রাখুন
হালকা সুতির পোশাক পরুন
দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন
শরীর খারাপ লাগলে দ্রুত ছায়াযুক্ত জায়গায় বিশ্রাম নিন

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বাড়ছে দাবদাহের প্রকোপ। তীব্র রোদে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন ও ক্লান্তিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ও জলশূন্যতা এড়াতে পান্তা ভাত, লেবুর জল, ডাবের জল, ঘোল ও জলসমৃদ্ধ ফল অত্যন্ত কার্যকরী। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।













