পথকুকুরজনিত ঝুঁকি কমাতে শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সংস্থাগুলিকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পথকুকুরজনিত ঝুঁকি কমাতে শিশু, বয়স্ক ও দুর্বল নাগরিকদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত টিকাকরণ ও নির্বীজীকরণে ঘাটতি এবং পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি, ২০০১-এর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সুপ্রিম কোর্ট দেশের স্থানীয় সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যে তারা শিশু, বয়স্ক ও দুর্বল নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পথকুকুরজনিত ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। আদালত কুকুরের কামড়ের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।

জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করেছে যে জননিরাপত্তা উপেক্ষা করা যাবে না। আদেশে বলা হয়েছে, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য জনসমাগমস্থলে শিশু ও বয়স্কদের কুকুরের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। আদালত আরও বলেছে, যারা কুকুর পালন করেন বা জনসমক্ষে কুকুরকে খাবার দেন, তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং কুকুরের আচরণের ওপর নজর রাখতে হবে।

বিচারপতি মেহতা মন্তব্য করেন, কেউ যদি কোনো প্রাণী রাখতে চান, তবে লাইসেন্স নেওয়া প্রয়োজন। জনসমক্ষে কুকুরের কারণে ভীতি বা অস্বস্তি কিংবা নোংরা সৃষ্টি করা যাবে না। আদালত পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি, ২০০১-এর বাস্তবায়নে ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

পশু কল্যাণ কর্মীদের মতে, পথকুকুরদের তাদের পরিচিত এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালস’-এর পরিচালক কেরেন নাজরেথ এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের অপসারণে ‘এলাকাভিত্তিক শূন্যতা’ তৈরি হয়, যার ফলে ওই এলাকায় নতুন ও অধিক আক্রমণাত্মক কুকুর প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়ে এবং কামড়ের ঘটনা কমার বদলে বাড়তে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট স্থানীয় সংস্থাগুলির টিকাকরণ ও নির্বীজীকরণ কর্মসূচিতে অনিয়ম নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব কর্মসূচির ঘাটতির ফলে মানবজীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং সড়ক দুর্ঘটনা ও কুকুরের কামড়ের ঘটনা বৃদ্ধি পায়।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে কুকুরের কামড়ের ৩৭ লক্ষেরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে কিছুটা হ্রাস লক্ষ্য করা গেলেও মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতে সমস্যাটি গুরুতর রয়ে গেছে।

Leave a comment