দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে বীরভূমবাসীর। সিউড়িতে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার স্বপ্ন এবার বাস্তবের পথে। রাজ্য বাজেটে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার পরই প্রশাসন জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে। বুধবার সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সম্ভাব্য স্থান খতিয়ে দেখেন একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
বাজেট ঘোষণার পরেই মাঠে প্রশাসন
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বাজেটে সিউড়িতে একটি নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, দ্রুত জমি চিহ্নিত করে পরবর্তী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা।এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বীরভূম জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ
নির্বাচনের আগে সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এলাকাবাসীকে একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বাজেটে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষ।স্থানীয়দের আশা, মেডিক্যাল কলেজ গড়ে উঠলে শুধু চিকিৎসা পরিষেবা নয়, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
কোথায় হতে পারে মেডিক্যাল কলেজ?
বুধবারের পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভব্রত ঘোষ, সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার ডাঃ প্রকাশ চন্দ্র বাগ, অতিরিক্ত জেলা শাসক এবং ভূমি ও রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা।তাঁরা হাসপাতাল চত্বরে উপলব্ধ জমির পরিমাণ এবং সেখানে মেডিক্যাল কলেজের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন।
প্রাথমিক সমীক্ষায় মিলল আশাব্যঞ্জক তথ্য
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মোট প্রায় ১৫ একর জমির মধ্যে ৭ থেকে ৮ একর জমি বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে। এই জমিতেই প্রাথমিকভাবে মেডিক্যাল কলেজের ভবন এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে।তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দফতরে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হবে। পরে বিশেষজ্ঞ দল এসে জমি ও প্রকল্পের উপযোগিতা পরীক্ষা করবেন।
মেডিক্যাল কলেজ হলে কমবে রেফার সমস্যা
বর্তমানে বীরভূম জেলার বহু রোগীকে জটিল চিকিৎসার জন্য কলকাতা বা অন্য বড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই বাড়তি চাপ তৈরি হয়।সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার ডাঃ প্রকাশ চন্দ্র বাগ জানিয়েছেন, মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে জেলার সাধারণ মানুষ আরও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। বিশেষ করে দরিদ্র রোগীদের অন্যত্র চিকিৎসার জন্য ছুটতে হবে না।
স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি বাড়বে শিক্ষার সুযোগ
মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে শুধু চিকিৎসা নয়, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বীরভূম নতুন পরিচয় পাবে। জেলার ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের এলাকাতেই উচ্চ চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্সিং কর্মী এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হবে।
রাজ্য বাজেটে সিউড়িতে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির ঘোষণা হতেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরে জমি পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য ও ভূমি দফতরের আধিকারিকরা। প্রাথমিক সমীক্ষায় হাসপাতালের প্রায় ৭-৮ একর ফাঁকা জমিকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।









