কৃষিকাজে লাভ কমে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তাই চাষের জমি থেকে বাড়তি আয় তুলতে এখন অনেকেই বিকল্প পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন পদ্ম চাষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর পুকুর বা জলাশয় ছাড়াও ধানের জমিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পদ্ম চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে।
ধান চাষের জমিতেই পদ্ম চাষ, বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ
একসময় মনে করা হত পদ্ম চাষ শুধুমাত্র বড় জলাশয়েই সম্ভব। কিন্তু কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এখন ধানের জমিতেও সফলভাবে পদ্ম চাষ করা হচ্ছে। বর্ষার মরসুমে জমিতে পর্যাপ্ত জল থাকায় পদ্ম গাছের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।ফলে একই জমি থেকে একাধিক ফসলের সুবিধা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে জমির উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে কৃষকদের আয়ও।
কীভাবে প্রস্তুত করা হয় জমি?
চাষিরা জানিয়েছেন, আষাঢ় মাসে জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে প্রথমে গোবর সার ও জৈব সার প্রয়োগ করা হয়। এরপর কয়েক ফুট দূরত্ব রেখে পদ্মের কন্দ রোপণ করা হয়।গাছ বড় হতে শুরু করলে প্রয়োজন অনুযায়ী সার দেওয়া হয়। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফুল ধরতে শুরু করে।
আগাছা ও রোগ-পোকার দমনে বিশেষ নজর
সফল পদ্ম চাষের অন্যতম শর্ত হল আগাছা নিয়ন্ত্রণ। কৃষকদের মতে, জমিতে আগাছা বেড়ে গেলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।এছাড়া প্রতি মাসে একবার সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করলে ফুলের উৎপাদন বাড়ে। ভালো মানের ফুল পেতে নিয়মিত পাতা ছাঁটাই করাও জরুরি বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ চাষিরা।
মাত্র ৩০ দিনেই শুরু ফুল বিক্রি
পদ্ম চাষের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল দ্রুত ফলন। চাষিরা জানিয়েছেন, কন্দ রোপণের প্রায় ৩০ দিনের মধ্যেই ফুল সংগ্রহ করা যায়।এরপর টানা তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত নিয়মিত ফুল পাওয়া যায়। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ এবং বাজারে চাহিদা থাকায় পদ্ম ফুলের বিক্রিও ভালো হয়।
খরচ কত, লাভই বা কত?
এক বিঘা জমিতে পদ্ম চাষ করতে আনুমানিক ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এর মধ্যে জমি প্রস্তুতি, কন্দ, সার ও পরিচর্যার খরচ অন্তর্ভুক্ত।তবে লাভ নির্ভর করে বাজারদর এবং উৎপাদনের উপর। উৎসবের মরসুমে পদ্ম ফুলের চাহিদা বাড়লে আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে গোলাপি ও সাদা—এই দুই ধরনের পদ্ম চাষই বেশি জনপ্রিয়।
কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলধারণ ক্ষমতা রয়েছে এমন জমিতে পদ্ম চাষ একটি লাভজনক বিকল্প হতে পারে। ধানের পাশাপাশি এই ফুল চাষ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পান, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।
শুধু ধান চাষ নয়, একই জমিতে পদ্ম চাষ করেও বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করছেন বহু কৃষক। বর্ষার শুরুতে পদ্মের কন্দ রোপণ করার মাত্র এক মাসের মধ্যেই ফুল বিক্রি শুরু করা যায়। তুলনামূলক কম খরচে এই চাষে মিলছে ভালো লাভ, ফলে কৃষকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পদ্ম চাষ।










