টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি বড় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা তাদের দলকে ভারতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচগুলির জন্য পাঠাতে রাজি নয়।
স্পোর্টস নিউজ: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পর টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিসিবি রবিবার জানিয়েছে যে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না। বোর্ড এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা concerns-কে উল্লেখ করেছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন আইপিএল ২০২৬-এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে রিলিজ করে দিয়েছে, যার পর ভারত সফর নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি-র উদ্বেগ
বিসিবি কর্তৃক জারি করা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ড ভারতে তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত নয়। এই কারণে বাংলাদেশ দল, যার নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না। এই বিবৃতি এমন সময়ে এসেছে যখন কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল ২০২৬-এর আগে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে রিলিজ করেছে, যার পর দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইসিসি-র সামনে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্প
![]()
যদি বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে এবং ভারতে খেলতে অস্বীকার করে, তাহলে আইসিসি-র সামনে মূলত তিনটি বিকল্প থাকবে:
১. বাংলাদেশকে ওয়াকওভার বা পয়েন্ট হারাতে হতে পারে
টি২০ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি সময় নেই। বেশিরভাগ ভেন্যু, হোটেল, সম্প্রচার এবং ভ্রমণের ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আইসিসি সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন এড়াতে চাইবে। যদি বাংলাদেশ ভারতে তাদের নির্ধারিত ম্যাচ না খেলে, তাহলে তাদের ওয়াকওভার দিতে হতে পারে এবং পয়েন্ট হারাতে হতে পারে।
ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিরাপত্তা কারণে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করেছিল। একইভাবে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে না গিয়ে ওয়াকওভার দেয়।
২. বাংলাদেশের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় করানো যেতে পারে
আইসিসি-র কাছে দ্বিতীয় বিকল্প হল বাংলাদেশের ম্যাচগুলি ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা। তবে এর জন্য সময়সূচি, লজিস্টিকস এবং ভেন্যুতে বড় পরিবর্তন করতে হবে। এই বিকল্পটি ডিসেম্বর ২০২৪-এ ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে হওয়া চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই চুক্তির অধীনে ভারতীয় দল ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য পাকিস্তানে ভ্রমণ করেনি, যেখানে পাকিস্তান ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপের তাদের সমস্ত ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলতে রাজি হয়েছিল। বাংলাদেশ আইসিসি-র কাছে একই ধরনের ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে।
৩. বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য কোনো দলকে সুযোগ
যদি বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের পরিবর্তে অন্য কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী এটা সম্ভব। এমন উদাহরণ আগে দেখা গেছে। ২০১৬ আন্ডার-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে যেতে অস্বীকার করেছিল, যার পর তাদের জায়গায় আয়ারল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ মোট ২০টি দল অংশ নেবে, সেক্ষেত্রে একটি দলের বাদ পড়া পুরো গ্রুপ সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে।









