ট্যাংরায় গ্রেপ্তার বিহারের কুখ্যাত জমি মাফিয়া নৌশাদ মালিক, খুন-তোলাবাজিসহ ডজনখানেক মামলায় ওয়ান্টেড

কলকাতার ট্যাংরা থেকে গ্রেপ্তার বিহারের কুখ্যাত জমি মাফিয়া নৌশাদ মালিক। খুন, জমি দখল, তোলাবাজি—সহ একাধিক মামলায় ওয়ান্টেড ছিল সে। বিহার এসটিএফ ও কলকাতা পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে। শীঘ্রই তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে পাটনায় নি

বিহারের পাটনার কুখ্যাত জমি মাফিয়া ও দুষ্কৃতী নৌশাদ মালিককে অবশেষে গ্রেপ্তার করল বিহার এসটিএফ ও কলকাতা পুলিশের যৌথ টিম। ট্যাংরার একটি আবাসনে নাম-পরিচয় গোপন করে লুকিয়েছিল সে। খুন, গুলিকাণ্ড, তোলাবাজি এবং জমি দখলের মতো একাধিক গুরুতর অপরাধে বিহার পুলিশের মোস্ট-ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল নৌশাদ।

ট্যাংরায় হানা—আবাসন থেকেই ধরা পড়ল কুখ্যাত দুষ্কৃতী

শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই ট্যাংরার একটি আবাসনে প্রচুর পুলিশবাহিনীর উপস্থিতিতে উত্তেজনা ছড়ায়। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতায় আত্মগোপন করে থাকা বিহারের জমি মাফিয়া নৌশাদ মালিক সেখানে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিল। গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে বিহার এসটিএফের দল কলকাতা পুলিশের সহায়তায় ওই অ্যাপার্টমেন্ট ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি চালিয়েই তাকে গ্রেপ্তার করে।

খুন-তোলাবাজিসহ জমি দখলের ডজনখানেক মামলায় অভিযুক্ত

পুলিশ সূত্রের দাবি, নৌশাদ মালিকের বিরুদ্ধে বিহারে অন্তত এক ডজনেরও বেশি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। জমি দখল, তোলাবাজি, ভয় দেখানো, বেআইনি অস্ত্র ব্যবহার—সব কিছুতেই সে জড়িত ছিল। শুধু তাই নয়, দিনের আলোয় খুনের অপরাধেও নাম জড়িয়েছে তার। বিহারের পাটনার শরিয়া আবাসনের কাছে আনোয়ার আলমকে খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিল নৌশাদ।

২০২৪ সালের গুলিকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা—এরপর থেকেই পালিয়ে বেড়ানো

২০২৪ সালের ২২ জুন বজরঙ্গবলি কলোনিতে দিবালোকে গুলি চালানোর ঘটনায় গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেই ঘটনার নেপথ্যেও ছিল নৌশাদের হাত। পুলিশ যখন তার খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে, তখনই রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যায় সে। লুকিয়ে পড়ে কলকাতা ও গোয়ার বিভিন্ন জায়গায়। পরে ট্যাংরায় নিজের ‘নিরাপদ আশ্রয়’ গড়ে তোলে।

য়েন্দাদের হাতে আসল হদিশ—কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছে নৌশাদ

বিহার পুলিশের গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে, কলকাতায় নিজের কেনা ফ্ল্যাটে ঠাঁই নিয়েছে নৌশাদ। তথ্য নিশ্চিত হতেই দ্রুত যোগাযোগ করা হয় কলকাতা পুলিশের সঙ্গে। দুই রাজ্যের পুলিশের সম্মিলিত পরিকল্পনায় তৈরি হয় বিশেষ অভিযান। তার পরেই ট্যাংরার আবাসনে হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে।

চক্রান্ত সামলাতে কালো টাকার জোর—দীর্ঘদিনই ফাঁকি দিচ্ছিল পুলিশকে

তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, নৌশাদের ছিল শক্তিশালী দুষ্কৃতী চক্র। জমি দখলের ব্যবসা থেকে তার কাছে বিপুল কালো টাকা জমেছিল। সেই টাকার জোরেই বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় অপরাধী চক্র পরিচালনা করত সে। পুলিশের একাধিক অ্যাকশন প্ল্যানকে টাকা খাইয়ে ভেস্তে দিত তার লোকেরা। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সে পুলিশের হাত এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়েছিল।

গ্রেপ্তারের পর কী হবে? ট্রানজিট রিমান্ডে পাটনা নেওয়ার প্রস্তুতি

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, বিহার পুলিশের আবেদনে আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। অনুমতি মিললেই নৌশাদ মালিককে পাটনায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই তার বিরুদ্ধে একে একে খুন, গুলিকাণ্ড ও জমি দখলের মামলার তদন্ত শুরু হবে। নৌশাদের গ্রেপ্তারি বিহারের অপরাধচক্র ভাঙতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

কলকাতার ট্যাংরা এলাকার একটি আবাসন থেকে গ্রেপ্তার করা হল বিহারের কুখ্যাত দুষ্কৃতী ও জমি মাফিয়া নৌশাদ মালিককে। খুন, জমি দখল, তোলাবাজি—সহ একাধিক গুরুতর অপরাধে ওয়ান্টেড ছিল সে। বিহার এসটিএফ এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে নৌশাদ। শীঘ্রই ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে পাটনায় নিয়ে যাওয়া হবে।

Leave a comment