শীতে মরশুমি ফুলের দাপট! সামান্য বিনিয়োগে বিপুল আয়—পূর্বস্থলীর ফুলচারা আজ কৃষকদের ‘নতুন সোনা

পূর্বস্থলীর নার্সারিগুলিতে শীত পড়তেই ফুলচারা বিক্রিতে বিপুল চাহিদা। আসাম–বিহার–ঝাড়খণ্ডে রফতানি বাড়ায় কৃষক ও যুবকদের আয় বেড়েছে। কম খরচে বেশি মুনাফায় ফুলচাষ এখন বিকল্প কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ।

শীতের দোরগোড়া মানেই পূর্বস্থলীর নার্সারি অঞ্চলে জমজমাট ব্যবসা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার ক্রেতার ভিড়ে মুখরিত গোটা এলাকা। মরশুমি ফুলচারা বিক্রি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কৃষকদের পাশাপাশি বহু বেকার যুবকও তৈরি করেছেন নিজেদের নতুন আর্থিক পথ।

শীত পড়তেই তুঙ্গে চাহিদা, ক্রেতার ঢল নামছে পূর্বস্থলীতে

শীত এলেই ফুলচাষের মরশুম। তার ছাপ স্পষ্ট পূর্বস্থলীর নার্সারি এলাকাগুলিতে।প্রতিদিন ভোরে নার্সারির দরজা খুলতেই শুরু হয় ক্রেতাদের ঢল। কখনও পাইকারি ব্যবসায়ী, কখনও শহর–গ্রাম মিলিয়ে সাধারণ গৃহস্থ—সকলেই দলে দলে আসছেন মরশুমি ফুলচারা কিনতে।

নার্সারি মালিকদের কথায়—

এ বছর শীত ঠিক মতো পড়ায় চাহিদা প্রচণ্ড। সকাল থেকে রাত—কাজ থামার সময় নেই।

 বর্ধমান থেকে আসাম–বিহারে! রাজ্য ছাড়িয়ে ফুলচারা এখন বাইরের বাজারেরও লাড্ডু

এবারের মরশুমে পূর্বস্থলীর ফুলচারা শুধুই জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

প্রতিদিন লরি ভরে চারা পাঠানো হচ্ছে—

আসাম

বিহার

ঝাড়খণ্ড

ওডিশা

এমনকি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও

বড় ট্রাকে লোড হওয়া ফুলচারা দেখে মনে হয়—এ যেন ছোটখাটো রফতানি শিল্প।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন—

“বাইরের হাটে আমাদের চারা গেলে হাতেনাতে দাম ওঠে। মান ভালো বলে বছর বছর বাড়ছে অর্ডার।”

যুবকদের জন্য নতুন চাকরি—ফুলচারা বিক্রি বদলে দিচ্ছে গ্রামের অর্থনীতি

গ্রামের বেশ কিছু যুবক প্রতিদিন ভোরে ট্রেন ধরে পাড়ি দিচ্ছেন ভিনরাজ্যে।

তাঁদের ব্যাগভর্তি থাকে বিভিন্ন ফুলের চারা—

শহরের মোড়ে, হাটে–ঘাটে বা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেই তাঁরা উপার্জন করছেন মোটা রোজগার।

ফুলচারা ব্যবসা যে গ্রামীণ যুবকদের কাছে নতুন আশা—তা বলাই যায়।

গাঁদা থেকে গোলাপ—চাহিদার তালিকায় নানা রঙের ফুল

শীত মানেই বাগানের রংবাহার।

তাই পূর্বস্থলীর নার্সারিগুলিতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা—

গাঁদা

গোলাপ

চন্দ্রমল্লিকা

টগর

ডালিয়া

কাঞ্চন

অ্যাস্টার

পেটুনিয়া

গ্রাহকরা নিজেদের শীতকালীন বাগান সাজাতে মরিয়া।

নার্সারিগুলোতে তাই সকাল–সন্ধে অবিরাম ব্যস্ততা।

সামান্য বিনিয়োগেই বেশি লাভ—বিকল্প চাষে আশীর্বাদ ফুলচাষ

প্রচলিত ধান বা আলুর চেয়ে ফুলচাষ তুলনায়—

কম খরচে

কম জমিতে

দ্রুত ফসল

লাভের হারও বেশি

ফলে বহু কৃষক এখন প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি ফুলচাষে মন দিচ্ছেন।

একজন কৃষক জানান—

ধান–আলুতে যা পাই না, চারা বিক্রি করে মাসে তার থেকেও বেশি আয় হয়। ঘরের খরচ চালানো সহজ হয়েছে।ফুলচাষ এখন সেই অর্থে কৃষকদের নতুন ‘সবুজ বিপ্লব’।

পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে শীত পড়তেই ফুলচারা বিক্রিতে জোয়ার। স্থানীয় কৃষক থেকে যুবকদের কাছে ফুলচাষ এখন নতুন কর্মসংস্থান ও বাড়তি আয়ের অন্যতম ভরসা। কম খরচ, বেশি চাহিদা ও বহুরাজ্যে চারা রফতানির ফলে এই অঞ্চলের নার্সারিগুলিতে এখন উৎসবের আমেজ।

Leave a comment