শক্তিপীঠ ও সিদ্ধপীঠ হিসেবে পরিচিত তারাপীঠে সারা বছরই ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে। তবে কৌশিকী অমাবস্যার সময় এই ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমে জমজমাট হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর। এই সময় হোটেলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়াও অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যায়। কিন্তু বাজেট কম হলেও চিন্তার কারণ নেই। একটু বুদ্ধি করে থাকার জায়গা বেছে নিলে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার আশপাশের বাজেটেও ট্রিপ সামলানো যেতে পারে।
কবে কৌশিকী অমাবস্যা?
চলতি বছর কৌশিকী অমাবস্যার পূর্ণ তিথি শুরু হচ্ছে ১০ সেপ্টেম্বর। এই বিশেষ তিথিকে কেন্দ্র করে তারাপীঠে আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। ফলে ওই সময় থাকার জায়গা পাওয়া যেমন কঠিন হয়, তেমনই শেষ মুহূর্তে বুকিং করলে খরচও বেড়ে যেতে পারে।
কম খরচে থাকতে পারেন ভারত সেবাশ্রম সংঘে
কৌশিকী অমাবস্যায় কম বাজেটে থাকার জন্য অন্যতম বিকল্প হতে পারে মুন্ডমালিনী তলা রোডের ভারত সেবাশ্রম সংঘ। এখানে তুলনামূলকভাবে কম খরচে থাকার ব্যবস্থা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।তবে ভিড়ের সময় আসন বা ঘরের সংখ্যা সীমিত হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকার ব্যবস্থা, ভাড়া এবং বুকিংয়ের নিয়ম জেনে নেওয়াই ভালো।
খাওয়ার খরচ বাঁচাবেন কীভাবে?
কৌশিকী অমাবস্যার সময় তারাপীঠে বহু ভক্ত ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। অনেক জায়গায় ভক্তদের মধ্যে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ফলে নির্দিষ্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে প্রসাদ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।তবে খাবারের জন্য পুরোপুরি এই ব্যবস্থার উপর নির্ভর না করে কিছু অতিরিক্ত টাকা সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ভিড়ের সময় খাবারের দোকানে দাম বা খাবার পাওয়ার পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
আটলা গ্রামে কম বাজেটের থাকার সুযোগ
বিশেষ করে তারাপীঠের মূল এলাকার হোটেলে ভাড়া বেশি হলে আশপাশের এলাকায় থাকার জায়গা খোঁজা যেতে পারে। তবে কৌশিকী অমাবস্যার ভিড়ের সময় পরিবহণের সুবিধা এবং মন্দিরে যাতায়াতের সময় আগে থেকে হিসাব করে নেওয়া জরুরি।
নিরিবিলি পরিবেশ চাইলে বীরচন্দ্রপুর
যাঁরা মন্দির চত্বরের ভিড় থেকে কিছুটা দূরে শান্ত পরিবেশে থাকতে চান, তাঁদের জন্য বীরচন্দ্রপুরের ইসকন মন্দিরের অতিথিশালা একটি বিকল্প হতে পারে। তারাপীঠ থেকে এই এলাকার দূরত্ব কয়েক কিলোমিটার।অতিথিশালায় থাকার সুযোগ ও খরচ সম্পর্কে আগে থেকেই মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নেওয়া উচিত। কৌশিকী অমাবস্যার মতো ব্যস্ত সময়ে আগে যোগাযোগ না করলে জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে।
বাজেট ট্রিপের জন্য কীভাবে পরিকল্পনা করবেন?
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো। আগে থেকেই থাকার জায়গা ঠিক করে নিন। মন্দিরের একেবারে কাছে থাকার বদলে আশপাশের গ্রাম বা এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করলে খরচ কমতে পারে।একইসঙ্গে যাতায়াতের খরচ, থাকার খরচ এবং খাবারের জন্য আলাদা বাজেট রাখুন। প্রসাদ বিতরণের সুযোগ থাকলেও জরুরি পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত টাকা সঙ্গে রাখুন। বিশেষ করে রাতের যাতায়াত ও স্থানীয় পরিবহণের খরচ আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে প্রতি বছরই ভক্তদের ঢল নামে তারাপীঠে। এবারও ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে বিপুল ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে থাকার খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। তবে আগে থেকে পরিকল্পনা করলে কম বাজেটেও তারাপীঠে রাত্রিবাস ও খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। ভারত সেবাশ্রম সংঘ থেকে আটলা গ্রাম কিংবা বীরচন্দ্রপুরের অতিথিশালা—জেনে নিন সাশ্রয়ী থাকার বিকল্পগুলি।













