কিশোর সন্তান অনলাইনে অচেনা কারও সঙ্গে ব্যস্ত? বকাঝকা নয়, এইভাবেই বোঝালে থাকবে সুরক্ষিত

কিশোর সন্তান অনলাইনে অচেনা কারও সঙ্গে ব্যস্ত? বকাঝকা নয়, এইভাবেই বোঝালে থাকবে সুরক্ষিত

দিনরাত মোবাইল হাতেই। নজর শুধু স্ক্রিনে। প্রশ্ন করলেই উত্তর—‘বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছি’। বাস্তবে বন্ধুর সংখ্যা কম হলেও ভারচুয়াল দুনিয়ায় কিশোর-কিশোরীদের যেন অগণিত সঙ্গী। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেক অভিভাবক। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বকাঝকা বা কড়া নজরদারি নয়—সন্তানকে বোঝানোই একমাত্র কার্যকর পথ।

আতঙ্ক নয়, আগে নিজেকে শান্ত করুন

সন্তান অনলাইনে অচেনা কারও সঙ্গে কথা বলছে জেনে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। তবে তার আগে নিজেকে সামলান। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা রাগ নিয়ে কথা বললে সন্তান আরও গুটিয়ে যাবে। শান্ত থেকে ধীরে কথা বলাই সবচেয়ে জরুরি।

বন্ধুর মতো কথা বলুন, পুলিশি জেরা নয়

সন্তানের সঙ্গে আলাপ শুরু করুন বন্ধুর ভঙ্গিতে।

 সে কার সঙ্গে কথা বলে

কতজন অনলাইন বন্ধু রয়েছে

 কী ধরনের আলোচনা হয়

এই প্রশ্নগুলি করুন স্বাভাবিক কৌতূহল থেকে। মনে রাখবেন, একদিনেই সব জানা সম্ভব নয়। ধৈর্য ধরুন।

লুকিয়ে ফোন দেখা সবচেয়ে বড় ভুল

সন্তানের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে গোপনে নজরদারি বা ফোন ঘাঁটা বিশ্বাসের বড় ক্ষতি করে। এতে সন্তান আরও গোপনীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বাস ভাঙলে ভবিষ্যতে বিপদের কথা সে আপনাকে জানাতেও ভয় পাবে।

‘অনলাইনে কথা বলা নিষেধ’—এই নিয়ম বাস্তবসম্মত নয়

আজকের যুগে ইন্টারনেট ও সোশাল মিডিয়া পুরোপুরি এড়িয়ে চলা অসম্ভব। তাই একেবারে নিষেধাজ্ঞা চাপালে উল্টো ফল হতে পারে। অতিরিক্ত চাপ সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।

অনলাইন সুরক্ষার নিয়মগুলো স্পষ্ট করে বলুন

 কোনও ব্যক্তিগত তথ্য (ঠিকানা, স্কুল, ফোন নম্বর) শেয়ার না করা

 অপরিচিত কাউকে ছবি পাঠাতে কড়া নিষেধ

 অনলাইন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে হলে অবশ্যই পরিবারকে জানানো

 কেউ বিরক্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে জানানো

মতামত চাপিয়ে নয়, সচেতনতা গড়ে তুলুন

কিশোর বয়সে নিজের মতামত তৈরি হয়। এই সময়ে অভিভাবকের কাজ শাসন করা নয়, বরং পথ দেখানো। সন্তানের ভাবনা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিলে সে নিজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখবে।

সোশাল মিডিয়ায় অচেনা মানুষের সঙ্গে কিশোর সন্তানের কথাবার্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বহু অভিভাবক। কিন্তু রাগ বা কড়া নিষেধ নয়—বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা, বিশ্বাস ও সচেতনতার মাধ্যমেই সন্তানকে অনলাইন বিপদ থেকে দূরে রাখা সম্ভব বলে মত প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের।

Leave a comment