ধর্ম নয়, মানবিকতাই শেষ কথা—এই বার্তাই যেন উঠে এল নদিয়ার তেহট্টে। পুজোর চাঁদা নিয়ে বিবাদের জেরে যাঁর পরিবার কার্যত একঘরে হয়ে পড়েছিল, সেই হিন্দু বৃদ্ধের মৃত্যুর পর শ্মশানযাত্রায় কাঁধ দিলেন মুসলিম প্রতিবেশীরাই।
পুজোর চাঁদা থেকেই শুরু দূরত্ব
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহট্টের বালিউড়া পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা আশুতোষ দাস বৈরাগ্য (৬২) দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে দূরত্বে ছিলেন। অভিযোগ, পুজোর চাঁদা দেওয়া নিয়ে প্রায় এক বছর আগে বিবাদ বাধে। সেই ঘটনার পর থেকেই পরিবারটিকে সমাজ থেকে একপ্রকার একঘরে করে দেওয়া হয়।
মৃত্যুতেও ভাঙেনি দেয়াল
শনিবার সকালে আশুতোষবাবুর মৃত্যু হলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভিযোগ, একই সম্প্রদায়ের কোনও প্রতিবেশীই শেষকৃত্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। চরম বিপদের মধ্যে পড়ে পরিবারের সদস্যরাই ঝাড় থেকে বাঁশ কেটে খাট তৈরি করতে বাধ্য হন।
মুসলিম প্রতিবেশীদের মানবিক উদ্যোগ
পরিস্থিতি বদলায়, যখন চাকরিসূত্রে বাইরে থাকা বড় ছেলে বাড়ি ফেরেন। এরপর মুসলিম প্রতিবেশীদের সহায়তায় আশুতোষবাবুর দেহ শ্মশানের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্মশানযাত্রা থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের যাবতীয় প্রাথমিক কাজে পাশে দাঁড়ান মুসলিমরাই।
পরিবারের কণ্ঠে যন্ত্রণা
মৃতের দাদা কানাইলাল দাস বৈরাগ্য বলেন, “সামান্য একটি বিবাদের কারণে আমাদের সম্প্রদায়ের কেউ পাশে দাঁড়াল না। এমনকি কেউ খোঁজও নেয়নি। এই অবস্থায় মুসলিম ভাইয়েরা যেভাবে এগিয়ে এলেন, তা কোনওদিন ভুলব না।”
‘মানুষ হিসেবেই পাশে দাঁড়িয়েছি’
প্রতিবেশী আমজাদ আলি মণ্ডল ও রাকিবুল মণ্ডলদের বক্তব্য, “এই পরিবারটি সব সময় আমাদের পাশে থেকেছে। ধর্ম দেখে নয়, মানুষ হিসেবেই আমরা এগিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও যদি ওঁদের পাশে কেউ না থাকে, প্রয়োজন হলে আমরাই সব দায়িত্ব নেব।”
পুজোর চাঁদা নিয়ে পুরনো বিবাদের জেরে একঘরে হয়ে পড়া হিন্দু বৃদ্ধের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত গড়লেন মুসলিম প্রতিবেশীরা। নদিয়ার তেহট্টে এই ঘটনায় আবারও সামনে এল সম্প্রীতির ছবি।










