মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক মারাত্মক সংঘর্ষের পর উভয় দেশ আবারও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষে আবারও বিরতি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের পর উভয় দেশ পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। এই পদক্ষেপটিকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তথ্য শেয়ার করে জানান, তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভীরকুল এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। আলোচনার পর উভয় দেশ অবিলম্বে সমস্ত সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে এবং পূর্বে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিরে যেতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
![]()
ট্রাম্প তার বিবৃতিতে বলেছেন, এটি একই মূল যুদ্ধবিরতি, যা আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় কার্যকর করা হয়েছিল। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও এই সময়ে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।
উল্লেখ্য, এর আগে এই বছরের জুলাই মাসেও থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। সেই সময় সীমান্ত এলাকায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও সামরিক সংঘর্ষের পর আমেরিকা কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প উভয় দেশকে সতর্ক করেছিলেন যে, তারা যদি যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত না হয়, তবে তাদের বাণিজ্যিক বিশেষাধিকার প্রভাবিত হতে পারে। এই চাপ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতার পর উভয় দেশ শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, যা অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ দেওয়া হয়েছিল।
তবে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি দূর হয়নি। সীমান্ত অঞ্চলে ছোটখাটো সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর ক্রমাগত দেখা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আবারও খারাপ করে দিয়েছে।
সীমান্ত বিরোধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। এর শিকড় ১৯০৭ সালে তৈরি করা একটি মানচিত্রে নিহিত, যা ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের সময় তৈরি করা হয়েছিল। এই মানচিত্রের ভিত্তিতে একটি বিতর্কিত অঞ্চলকে কম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল, যেখানে থাইল্যান্ড এটিকে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকভাবে নিজেদের অঞ্চল বলে মনে করে।
১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) এই বিতর্কিত অঞ্চলটি কম্বোডিয়াকে দেওয়ার রায় দেয়। তা সত্ত্বেও, থাইল্যান্ডে আজও অনেক মানুষ এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত নন, এবং এই অসন্তোষ সময়ে সময়ে সীমান্তের উত্তেজনা সৃষ্টি করে।









