উত্তর প্রদেশের আইটিআই বিভাগে ২২ বছর কর্মরত তিন কর্মকর্তা বরখাস্ত

উত্তর প্রদেশের শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (আইটিআই) সংক্রান্ত তদন্তে ভুয়া নথি ও নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ২২ বছর কর্মরত তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগ পুরনো নিয়োগ রেকর্ডও পর্যালোচনা করতে পারে।
উত্তর প্রদেশের আইটিআই বিভাগে ২২ বছর কর্মরত তিন কর্মকর্তা বরখাস্ত
Photo Credit / Attribution: Google

প্রয়াগরাজে উত্তর প্রদেশের শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (আইটিআই) সংক্রান্ত একটি মামলায় প্রায় ২২ বছর ধরে কর্মরত তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, তারা ভুয়া নথি ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে চাকরি অর্জন করেছিলেন।

তথ্য অনুযায়ী, তিন কর্মকর্তা ভিন্ন সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তাদের দায়িত্ব পালনস্থল ছিল প্রয়াগরাজ, লখনউ ও মির্জাপুর।

মামলাটি সামনে আসার পর বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। নথি ও চাকরিসংক্রান্ত রেকর্ড যাচাইয়ে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উত্তর প্রদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের মতে, তদন্তে শিক্ষাগত সনদ, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সংরক্ষণসংক্রান্ত নথিতে অনিয়মের তথ্য সামনে আসে। এর পরই তিন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অপসারণের নির্দেশ জারি করা হয়।

জানা গেছে, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। অভিযোগ এবং নথি যাচাইয়ের পর তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাদের প্রতিবেদন বিভাগে জমা দেয়।

কারিগরি শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিভাগ পুরনো নিয়োগসংক্রান্ত নথিও পর্যালোচনা করতে পারে।

২২ বছর চাকরির পর হঠাৎ বরখাস্তের ঘটনায় বিভাগীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক কর্মী এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছেন।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরিতে ভুয়া নথি ব্যবহারের প্রমাণ মিললে দীর্ঘদিন চাকরিতে থাকার পরও নিয়োগ বাতিল করা যেতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে বেতন ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়েও পর্যালোচনা করা হয়।

লখনউস্থিত সদর দপ্তর থেকে নির্দেশ জারির পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে শূন্যপদ পূরণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বহু মানুষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত নথি যাচাইয়ের দাবি জানাচ্ছেন।

উত্তর প্রদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন ভুয়া নথি প্রস্তুত বা যাচাইয়ে অবহেলার পেছনে অন্য কারা জড়িত থাকতে পারেন, তাও তদন্ত করতে পারে।

সরকারি সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও পুরনো নিয়োগ রেকর্ড যাচাই আরও জোরদার করা হতে পারে, যাতে জালিয়াতির ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

Leave a comment