শীতের শুরুতেই ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি, কাশি ও গলা বসার সমস্যা। কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া, টানা ব্যথা, কণ্ঠস্বরে খসখসে ভাব—এই সব সমস্যার মূল কারণ রাইনো ভাইরাস, যা কমন কোল্ডের প্রধান লক্ষণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিওতে চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, কোন খাবার পরিস্থিতি আরও খারাপ করে এবং কীভাবে মিলবে উপশম।
শীতে বাড়ছে গলা বসার প্রবণতা
শীতকাল মানেই সর্দিকাশি ও গলা ব্যথার প্রকোপ। বহু মানুষই এই সময় গলা ফেঁসে যাওয়া বা কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় কাতর। চিকিৎসকদের মতে, এসময় ভাইরাল ইনফেকশন দ্রুত ছড়ায়, বিশেষত রাইনো ভাইরাস। এটাই কণ্ঠনালীর সংক্রমণ ঘটিয়ে গলা বসার কারণ হয়।

রাইনো ভাইরাসই দায়ী, ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়
চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা গলা বসে যাওয়া ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে নয়। এটি পুরোপুরি রাইনো ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। যখন ল্যারিংক্সে প্রদাহ হয়, তখন একে বলা হয় ‘অ্যাকিউট ল্যারিঞ্জাইটিস’। আশঙ্কার কিছু নেই, সঠিক পরিচর্যা করলে এক সপ্তাহের মধ্যেই উপশম মিলবে।
কমন ভুল: চা-কফি-চকোলেট খেলে বাড়ে বিপদ
গলা ব্যথা বা কণ্ঠস্বর ভাঙা কমাতে অনেকে বেশি করে চা বা কফি পান করেন। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এতে হিতে বিপরীত হয়।কারণ:
চা ও কফির ক্যাফেইন গলা শুকিয়ে দেয়
চকোলেট ও মশলাদার খাবার রিফ্লাক্স বাড়ায়
রিফ্লাক্স গলার জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে ইনফ্ল্যামেশন তীব্র করে
এই কারণে গলা সেরে ওঠার বদলে আরও খারাপ হয় অবস্থার।
উষ্ণ জলই সেরা ‘ওষুধ’, ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
এই সময় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। বার বার উষ্ণ জল চুমুক দিয়ে খেতে হবে। ঠান্ডা জল, সফট ড্রিংকস, আইসক্রিম পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে।
চিকিৎসক স্পষ্ট জানাচ্ছেন—

ধূমপান একদমই নয়
অতিরিক্ত কথা বলা বন্ধ করতে হবে
ভয়েস রেস্টই দ্রুত উপশমের প্রধান উপায়
গলা খাঁকারি দেওয়ার অভ্যেস থেকেও দূরে থাকতে হবে, তাতে প্রদাহ আরও বাড়ে।
ওষুধের প্রয়োজন কম, কিন্তু সতর্কতা জরুরি
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গলা বসে যাওয়া বড় কোনও জটিলতার লক্ষণ নয়।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী একটি সাধারণ অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধেই উপশম পাওয়া যায়। তবে—
১ সপ্তাহে না সাড়লে
বা ৩ সপ্তাহের বেশি সমস্যা স্থায়ী হলে
অবশ্যই ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী গলা বসা কখনও কখনও অন্য স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।
শীতে গলা বসা বা কণ্ঠস্বর ভাঙার জন্য দায়ী রাইনো ভাইরাস। এটি কমন কোল্ডের লক্ষণ, ইনফ্লুয়েঞ্জার নয়। চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, চা-কফি-চকোলেট-মশলাদার খাবার পরিস্থিতি আরও খারাপ করে। প্রচুর উষ্ণ জল, ভয়েস রেস্ট ও অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধেই মিলতে পারে উপশম।













