বজ্রপাত ও বৃষ্টিতে লখনউয়ে আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন, একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত

লখনউয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে বজ্রপাত, প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ও যান চলাচল প্রভাবিত হয়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও আর্দ্র হাওয়ার প্রভাবে আগামী কয়েক দিন অন্তর অন্তর হালকা বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বজ্রপাত ও বৃষ্টিতে লখনউয়ে আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন, একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত
Photo Credit / Attribution: Google

লখনউয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। সকাল থেকেই বজ্রপাত ও প্রবল গর্জনের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। শহরের একাধিক এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায় এবং আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে শহরের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়। তবে সকাল প্রায় ৯টার পর ধীরে ধীরে আবহাওয়া পরিষ্কার হতে শুরু করে এবং রোদ ওঠে।

ভোর প্রায় ৪টা থেকেই প্রবল হাওয়া ও মেঘের গর্জন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ে। একাধিক এলাকায় রাস্তায় জল জমে যায় এবং গাছের ডাল ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া যায়।

লখনউয়ের গোমতীনগর, আলীগঞ্জ, ইন্দিরানগর, চিনহাট, হজরতগঞ্জ এবং চারবাগ-সহ একাধিক এলাকায় কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ ছিল। প্রবল হাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের দলগুলি সকাল থেকেই মেরামতির কাজে নিয়োজিত ছিল।

আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মেলে। গত কয়েক দিন ধরে প্রবল রোদ ও গরম হাওয়ার কারণে মানুষ সমস্যার মধ্যে ছিলেন। সকালের বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে যায় এবং আবহাওয়া মনোরম হয়ে ওঠে।

বৃষ্টির সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচলও প্রভাবিত হয়। অফিস ও স্কুলগামী মানুষকে জল জমা এবং পিচ্ছিল রাস্তার কারণে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কয়েকটি এলাকায় যানবাহন ধীর গতিতে চলতে দেখা যায়।

আবহাওয়া দফতরের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং আর্দ্র হাওয়ার প্রভাবে রাজ্যে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিন অন্তর অন্তর মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে পারে।

সকালের সময় আকাশ এতটাই ঘন কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল যে বহু জায়গায় দিনের বেলাতেও অন্ধকারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রবল বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ চমকের কারণে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একাধিক পরিবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ করে দেন।

বৃষ্টির পর শহরের পার্ক ও রাস্তায় ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করে। বহু মানুষকে মর্নিং ওয়াকের সময় আবহাওয়া উপভোগ করতে দেখা যায়। শিশু ও তরুণরাও বৃষ্টি উপভোগ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে গরম থেকে স্বস্তি মিললেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জল জমার সমস্যা ভোগান্তি বাড়িয়েছে। কয়েকটি এলাকায় সকালে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবাতেও প্রভাব পড়ে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রাক-বর্ষার কার্যকলাপ সক্রিয় রয়েছে। গরম ও আর্দ্রতার কারণে আকস্মিক ঝড়, বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। খারাপ আবহাওয়ার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে না থাকতে। গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরত্ব বজায় রাখারও আবেদন জানানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমেও মানুষ বৃষ্টি ও কালো মেঘের ভিডিও শেয়ার করেছেন। একাধিক ভিডিওতে প্রবল হাওয়ায় দুলতে থাকা গাছ এবং বৃষ্টিতে ভিজে থাকা রাস্তার দৃশ্য দেখা গেছে।

তবে সকাল ৯টার পর আবহাওয়া পরিষ্কার হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে রোদ ওঠে। তা সত্ত্বেও আকাশে হালকা মেঘ রয়ে যায়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দিনের বেলায় আর্দ্রতা বাড়তে পারে, তবে সন্ধ্যার মধ্যে আবার আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে।

বর্তমানে লখনউয়ের পরিবর্তিত আবহাওয়া শহরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। গরম থেকে স্বস্তি মিললেও আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া নিয়ে মানুষ সতর্ক রয়েছেন।

Leave a comment