বাবরি মসজিদ বিতর্কে টিএমসি বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সাসপেন্ড: মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তোলপাড়

মুর্শিদাবাদের টিএমসি বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণার পর দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় টিএমসি এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। পুরো বিতর্ক জানুন।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণার পর দল কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।

TMC বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সাসপেন্ড: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ভরতপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল সাসপেন্ড করেছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে শুধু রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়নি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল।

টিএমসি নেতৃত্ব এই বিষয়টিকে দলের নীতি ও সাংবিধানিক মর্যাদার পরিপন্থী মনে করে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করেছে।

বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণার জেরে বিতর্ক বৃদ্ধি

হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ৬ ডিসেম্বর সেই তারিখ, যখন ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বিতর্কিত কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এই ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কবীর এও বলেছিলেন যে, যদি এর জন্য তাঁকে দল থেকে পদত্যাগও করতে হয়, তবুও তিনি বাবরি মসজিদ নির্মাণ করবেন। তিনি আরও বলেছিলেন যে, প্রয়োজন হলে এর জন্য তিনি নিজের জীবনও দিতে পারেন।

বিতর্ক বাড়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন যে, এ ধরনের মন্তব্য দলের নীতি এবং রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন যে, বাবরি মসজিদের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই পুরো ঘটনার পেছনে বিজেপির রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা থাকতে পারে, যাতে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা যায়।

বাবরি মসজিদ বিতর্কে টিএমসি বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সাসপেন্ড: মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তোলপাড়

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ক্ষুব্ধ ছিলেন

দলের সূত্র অনুযায়ী, এই পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হুমায়ুন কবীরের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাঁর মন্তব্যের কারণে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়তে পারতো, যা দেখে দল অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে। জানা গেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে এই বার্তা দিয়েছেন যে কোনো নেতা ব্যক্তিগত এজেন্ডার অধীনে এমন সংবেদনশীল মন্তব্য করতে পারেন না, যা সামাজিক সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

টিএমসি থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরেও হুমায়ুন কবীর তাঁর মন্তব্যে অটল থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন যে, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাবেশ থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর অপমানের ষড়যন্ত্র। কবীর বলেন, "আমি বাবরি মসজিদ তৈরি করবই। আমাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হলেও আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরব না। প্রয়োজন হলে এর জন্য আমি আমার জীবনও দেব।"

তিনি এও দাবি করেন যে, ২২ তারিখে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করবেন এবং রাজ্যের ১২২টি বিধানসভা আসনে নিজেদের প্রার্থী দেবেন। হুমায়ুন কবীর আরও বলেছিলেন যে, ৬ ডিসেম্বর তিনি রেজি নগর থেকে বেলডাঙা পর্যন্ত একটি বিশাল সমাবেশ করবেন, যার ফলে সেদিন জাতীয় সড়কে তীব্র যানজট হবে। এই মন্তব্যে প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছিল, কারণ এতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

Leave a comment