বাঙালির বাড়িতে পবিত্রতার প্রতীক তুলসী গাছ। কিন্তু গ্রীষ্মের তীব্র গরমে অনেক সময় এই গাছ নেতিয়ে পড়ে বা শুকিয়ে যায়। একটু যত্ন আর কিছু সহজ কৌশলেই তবে সারা গরমজুড়ে তুলসী থাকবে সবুজ ও সতেজ।
![]()
মাটি প্রস্তুতি: ঝুরঝুরে মাটিই সাফল্যের চাবিকাঠি
তুলসী যেকোনো মাটিতে জন্মালেও গরমে ভালো রাখতে হলে মাটি হতে হবে ঝুরঝুরে।
টবের মাটির সঙ্গে কোকোপিট মেশালে মাটিতে বাতাস চলাচল বাড়ে এবং জল ধরে রাখার ক্ষমতাও বাড়ে।
টবের নিচে ছিদ্র থাকা জরুরি, যাতে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়।
গোড়ায় ‘সবুজ’ মালচিং: আর্দ্রতা ধরে রাখার ট্রিক
গরমে গাছ শুকিয়ে যাওয়ার বড় কারণ মাটির জল দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া।
এজন্য গাছের গোড়ায় শুকনো পাতা, ঘাস বা ছোট ডাল দিয়ে ঢেকে দিন (মালচিং)।
এতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে এবং শিকড় ঠান্ডা থাকে।
![]()
জল দেওয়ার সঠিক সময় জানেন?
গ্রীষ্মে তুলসী গাছের জল প্রয়োজন একটু বেশি।
প্রতি ২-৩ দিন অন্তর জল দিন।
তবে দুপুরের রোদে নয়—ভোরবেলা বা সন্ধ্যায় জল দেওয়াই সেরা।
অতিরিক্ত জল দিলে শিকড় পচে যেতে পারে, তাই পরিমিত জল দিন।
পাতায় স্প্রে: সতেজ রাখার সহজ উপায়
শুধু গোড়ায় জল দিলেই হবে না—
স্প্রে বোতল দিয়ে পাতায় হালকা জল ছিটিয়ে দিন।
এতে পাতা সতেজ থাকবে এবং গরমে পুড়ে যাওয়া কমবে।
![]()
সার ও ছাঁটাই: ঘন ও সবুজ গাছের রহস্য
তুলসীকে সবুজ রাখতে প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করুন—
গোবর সার বা ভার্মিকম্পোস্ট মাটিতে মেশান।
নিয়মিত ছাঁটাই করুন, বিশেষ করে ফুল ফুটলে তা কেটে দিন।
এতে নতুন ডাল গজাবে এবং গাছ আরও ঘন হবে।
রোদ থেকে সুরক্ষা: সরাসরি তাপ এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত রোদে তুলসীর পাতা পুড়ে যেতে পারে।
তাই এমন জায়গায় রাখুন যেখানে আলো আছে, কিন্তু সরাসরি তীব্র রোদ নেই।
![]()
প্রচণ্ড গরমেও সতেজ থাকবে তুলসী গাছ—যদি মাটি, জল ও যত্ন ঠিকমতো করা যায়। মালচিং, কোকোপিট ও প্রাকৃতিক সারই হতে পারে গাছ বাঁচানোর চাবিকাঠি।








