প্রেম, বিশ্বাস আর একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন—সবই মুহূর্তে ভেঙে চুরমার। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে এক নৃশংস খুনের ঘটনায় শিউরে উঠেছে দেশ। লিভ-ইন সঙ্গিনীকে ‘পথের কাঁটা’ মনে করে তাকে সরিয়ে দিতে মাথা কেটে খুন করার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের বিরুদ্ধে।
![]()
জঙ্গল থেকে উদ্ধার মুণ্ডহীন দেহ
বুলন্দশহরের নারসেনা এলাকার ঘুঙ্ঘরাওয়ালি গ্রামের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় বছর ৩৮-এর এক মহিলার মুণ্ডহীন দেহ। প্রথমে পরিচয় জানা না গেলেও পরে তদন্তে জানা যায়, মৃতার নাম বাবলি দেবী, যিনি দিল্লির কল্যাণপুরীর বাসিন্দা।
প্রেম থেকে লিভ-ইন, তারপর মর্মান্তিক পরিণতি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবলির স্বামীর মৃত্যুর পর অভিযুক্ত বিকাশ কুমারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর ধরে তারা দিল্লিতে একসঙ্গে লিভ-ইন করছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কেই ফাটল ধরে।
অন্য সম্পর্কে জড়াতেই খুনের ছক
তদন্তে উঠে এসেছে, বিকাশ অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই বিবাদ শুরু হয়। বাবলি সেই সম্পর্ক মেনে নিতে না চাওয়ায় তাঁকে সরানোর পরিকল্পনা করে অভিযুক্ত।
![]()
পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন
১৫ মার্চ বাবলিকে প্রলোভন দেখিয়ে বুলন্দশহরে নিজের গ্রামে নিয়ে যায় বিকাশ। সেখানে নিজের ভাই ও বন্ধুকে ডেকে নিয়ে বনাঞ্চলে নিয়ে গিয়ে মদ্যপানের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয় তাঁকে। হাত-পা চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা কেটে ফেলা হয়।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, আলাদা করে ফেলা হয় মাথা
খুনের পর পরিচয় গোপন করতে বাবলির মাথা দেহ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ফেলে দেওয়া হয়। দেহটি জঙ্গলে খালের ধারে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
![]()
পুলিশের তৎপরতায় গ্রেফতার অভিযুক্তরা
ঘটনার পর তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে বিকাশ নিজেই নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করে। তবে নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। মুরাদনগর থেকে বিকাশকে গ্রেফতার করা হয়, পাশাপাশি তার সহযোগী অমনকেও আটক করা হয়েছে। আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।
উদ্ধার অস্ত্র ও প্রমাণ, স্বীকারোক্তি অভিযুক্তদের
পুলিশ খুনের অস্ত্র, মোটরবাইক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তরা জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন ও প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।
![]()
উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। প্রেমিকের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কের জেরে এক মহিলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। মাথা কেটে দেহ জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে মূল অভিযুক্তসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।












