শ্রীলঙ্কা এ-র বিপক্ষে ম্যাচ-পরবর্তী ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় ICC আচরণবিধির আলোচনায় বৈভব সূর্যবংশী

দাম্বুলাভারতের পরাজয়ের পর বৈভব সূর্যবংশী ও বিষেন হালাম্বাগের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ICC আচরণবিধির অনুচ্ছেদ ২.১২ অনুযায়ী অনুপযুক্ত শারীরিক সংস্পর্শ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

দাম্বুলায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের এক ম্যাচে ভারত ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর মধ্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে উভয় দলের স্কোর সমান থাকায় ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ জয় তুলে নেয় এবং ভারত ‘এ’কে কাছাকাছি ব্যবধানে হার মেনে নিতে হয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর ক্রিকেটার বিষেন হালাম্বাগের মধ্যে হওয়া উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর আচরণবিধি অনুযায়ী বৈভব সূর্যবংশীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দাম্বুলায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচে ভারত ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই দেখা যায়। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে উভয় দলের স্কোর সমান হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ ভালো পারফরম্যান্স করে জয় নিশ্চিত করে, আর ভারত ‘এ’কে পরাজয় মেনে নিতে হয়। ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তের চাপের পর ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভারতের বৈভব সূর্যবংশী ও শ্রীলঙ্কার বিষেন হালাম্বাগের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি শারীরিক সংস্পর্শে পৌঁছে যায় এবং দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে হালকা ধাক্কাধাক্কি দেখা যায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর অভিজ্ঞ উইকেটকিপার নিরোশন ডিকওয়েলা হস্তক্ষেপ করে দুই খেলোয়াড়কে আলাদা করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যার পর ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা এ-র বিপক্ষে ম্যাচ-পরবর্তী ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় ICC আচরণবিধির আলোচনায় বৈভব সূর্যবংশী

ক্রিকেটারদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ICC একটি বিস্তারিত আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে। ওই আচরণবিধির অনুচ্ছেদ ২.১২ অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়, আম্পায়ার, ম্যাচ কর্মকর্তা, সাপোর্ট স্টাফ বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অনুপযুক্ত শারীরিক সংস্পর্শ নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।

এই বিধান অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেওয়া, কাঁধ দিয়ে আঘাত করা, সংঘর্ষে জড়ানো বা খেলাধুলার চেতনার পরিপন্থী যে কোনো শারীরিক আচরণ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার কারণ হতে পারে। তবে শাস্তি নির্ধারণের আগে ম্যাচ রেফারি ঘটনার গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে থাকেন।

যদি ম্যাচ রেফারি মনে করেন যে কোনো খেলোয়াড় ICC আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা, ম্যাচ ফির জরিমানা, ডিমেরিট পয়েন্ট অথবা গুরুতর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা।

তবে কোনো খেলোয়াড়কে দোষী সাব্যস্ত করার আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হয়। ভিডিও ফুটেজ, ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বক্তব্যও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ হতে পারে। ফলে বৈভব সূর্যবংশীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি হবে নাকি সতর্কবার্তা দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

 

Leave a comment