সিনিয়র মহিলা টি-২০ ট্রফিতে পরপর চার বলে চার উইকেট, ইতিহাস গড়লেন বৈষ্ণবী শর্মা

সিনিয়র উইমেন্স টি-২০ ট্রফিতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে পরপর চার বলে চার উইকেট নিলেন বৈষ্ণবী শর্মা। চার ওভারে ২২ রানে ছয় উইকেট নিয়ে মধ্যপ্রদেশকে ৯ উইকেটে জেতালেন তিনি।

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে নজির গড়লেন তরুণ স্পিনার বৈষ্ণবী শর্মা। সিনিয়র উইমেন্স টি-২০ ট্রফিতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে পরপর চার বলে চারটি উইকেট নিয়ে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন মধ্যপ্রদেশের এই বাঁহাতি স্পিনার। ম্যাচে চার ওভার বল করে ২২ রানের বিনিময়ে মোট ছয়টি উইকেট নেন তিনি। তাঁর বোলিংয়ের সুবাদে অন্ধ্রপ্রদেশকে ৯ উইকেটে হারায় মধ্যপ্রদেশ।

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর নিউ চণ্ডীগড়ের পিসিএ স্টেডিয়ামে মধ্যপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশের মহিলা দলের মধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় মধ্যপ্রদেশ। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বৈষ্ণবী শর্মার স্পিনের সামনে সমস্যায় পড়ে অন্ধ্রপ্রদেশের ব্যাটাররা।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বোলিং করতে আসেন বাঁহাতি স্পিনার বৈষ্ণবী। প্রথম তিন ওভারে ১৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখা যায় শেষ ওভারে।

ওভারের প্রথম দুই বলে ছয় রান দেওয়ার পর পরের চার বলে চারটি উইকেট তুলে নেন বৈষ্ণবী। তৃতীয় বলে আউট হন হেনরিয়েটা পেরেরা। চতুর্থ বলে অঞ্জলি সারওয়ানি, পঞ্চম বলে অখিলা পাভানি এবং শেষ বলে শবনম শাকিলকে আউট করেন তিনি। এর ফলে পরপর চার বলে চার উইকেট নিয়ে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন এই ভারতীয় স্পিনার।

ক্রিকেটে পরপর তিন বলে তিনটি উইকেট নেওয়াকে হ্যাটট্রিক বলা হয়। অন্যদিকে, পরপর চার বলে চারটি উইকেট নেওয়াকে সাধারণত ডবল হ্যাটট্রিক বলা হয়ে থাকে। উপলব্ধ টি-২০ রেকর্ড অনুযায়ী, বৈষ্ণবী শর্মা এই কৃতিত্ব অর্জনকারী দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বোলার।

সিনিয়র মহিলা টি-২০ ট্রফিতে পরপর চার বলে চার উইকেট, ইতিহাস গড়লেন বৈষ্ণবী শর্মা

এর আগে ২০২২ সালে মুম্বইয়ের হয়ে সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে পরপর চার বলে চারটি উইকেট নিয়েছিলেন হুমাইরা কাজি।

অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে বৈষ্ণবীর বোলিং পরিসংখ্যান ছিল চার ওভারে ২২ রান দিয়ে ছয় উইকেট। তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ৫.৫০।

বৈষ্ণবীর বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ২০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান তোলে অন্ধ্রপ্রদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন হেনরিয়েটা পেরেরা। একদিকে উইকেট ধরে রেখে রান তুললেও অন্য প্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি তিনি।

অন্ধ্রপ্রদেশের আর কোনও ব্যাটার ২৫ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। শেষের দিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও বৈষ্ণবীর পরপর চার উইকেটের ধাক্কায় চাপে পড়ে যায় অন্ধ্রপ্রদেশ।

১৩০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই রান তুলতে থাকে মধ্যপ্রদেশ। ওপেনার অনুষ্কা শর্মা ও আয়ুষী শুক্লা প্রথম উইকেটে ৯৯ রানের জুটি গড়েন।

অনুষ্কা ৫৩ বলে অপরাজিত ৮১ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কা। অন্যদিকে, আয়ুষী শুক্লা ২৯ বলে ৩৭ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা।

আয়ুষী আউট হওয়ার পরেও মধ্যপ্রদেশের রান তোলার গতি কমেনি। শেষ পর্যন্ত ১৫.১ ওভারে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় মধ্যপ্রদেশ। ৯ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে দলটি। ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংসের জন্য প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন অনুষ্কা শর্মা।

এর আগেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের বোলিং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বৈষ্ণবী শর্মা। ২০২৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।

সেই ম্যাচে চার ওভার বল করে মাত্র পাঁচ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট নিয়েছিলেন বৈষ্ণবী। মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে হ্যাটট্রিক করা প্রথম বোলার হন তিনি। ওই প্রতিযোগিতায় মোট ১৭টি উইকেট নিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এই স্পিনার।

 

Leave a comment