বারাণসীর কোনিয়ায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট জল, যাতায়াতে নৌকার ওপর নির্ভর বাসিন্দাদের

গঙ্গার পাল্টা প্রবাহে বারাণসীর কোনিয়ায় বরুণা নদীর জলস্তর বেড়েছে। কোনিয়া ঘাট থেকে কোনিয়া সেতু পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয় ফুট জল জমে যাওয়ায় বাসিন্দারা বাড়ির প্রথম তলায় থাকছেন এবং জরুরি কাজে নৌকার ওপর নির্ভর করছেন।

वारাণসীর কোনিয়া এলাকায় গঙ্গার পাল্টা প্রবাহের কারণে বরুণা নদীর জলস্তর বেড়েছে। কোনিয়া ঘাট থেকে কোনিয়া সেতু পর্যন্ত একাধিক এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট পর্যন্ত জল জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বাসিন্দারা যাতায়াত ও জরুরি কাজের জন্য নৌকার ওপর নির্ভর করছেন।

কোনিয়া এলাকায় বরুণা নদীর বন্যার জেরে বহু বাড়ির নিচের অংশ সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গেছে। কয়েকটি বাড়িতে সিঁড়িও ডুবে গেছে। বাসিন্দারা খাট, গদি, পোশাক, শস্য, বাসনপত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ রাখতে সেগুলি ওপরের তলায় সরিয়ে নিচ্ছেন।

যেসব বাড়িতে প্রথম তলা রয়েছে, সেখানেই এখন বাসিন্দাদের থাকা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর প্রধান জায়গা হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ড ৪৩-এর কোনিয়া ঘাট থেকে কোনিয়া সেতু পর্যন্ত একাধিক বাড়ির চারপাশে জল জমে রয়েছে। সড়কে স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ থাকায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বদলে গেছে।

বন্যার কারণে সড়ক ও গলির যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় নৌকা যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কোনিয়া ঘাট থেকে কোনিয়া সেতু পর্যন্ত বর্তমানে দুটি নৌকা মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ৩১ আগস্ট থেকে নৌকা চলাচল করছে। মাঝি মনোজ, বাবু এবং বিমল মানুষকে জলের মধ্যে প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। কেউ ওষুধ আনতে, আবার কেউ রেশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে নৌকার সাহায্য নিচ্ছেন।

বারাণসীর কোনিয়ায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট জল, যাতায়াতে নৌকার ওপর নির্ভর বাসিন্দাদের

বন্যার কারণে ছোটখাটো কাজের জন্যও মানুষকে জল পার হতে হচ্ছে। আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা, জরুরি কাজ মেটানো কিংবা বাড়ির জন্য সামগ্রী আনার ক্ষেত্রেও নৌকার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

বন্যার প্রভাব বাড়িঘরের পাশাপাশি গাড়ি ও গৃহস্থালির সামগ্রীর ওপরও পড়েছে। কয়েকটি গ্যারেজে রাখা চার চাকার গাড়ি জলের তলায় চলে গেছে। গাড়ির মালিকদের সেগুলি নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাড়িতে থাকা বৈদ্যুতিন সামগ্রী, আসবাব, পোশাক এবং খাদ্যসামগ্রীও জলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানীয় জল সংগ্রহ, রান্না করা এবং শৌচালয়ে পৌঁছানোর মতো দৈনন্দিন কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বন্যার মধ্যে শিশুদের পড়াশোনা নিয়েও পরিবারগুলি চিন্তিত। স্কুল খোলা থাকলেও পাঁচ থেকে ছয় ফুট জল থাকায় অনেক শিশু বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না। স্থানীয় বাসিন্দা ঔতিক কুমার গুপ্ত বলেন, স্কুল খুলে গেছে, কিন্তু শিশুরা বাড়ি থেকে যেতে পারছে না এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি থেমে গেছে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ইন্দু গুপ্ত বলেন, বসন্তা কলেজের কাছে বাঁধ তৈরি হলে কোনিয়ায় জল ঢোকার সমস্যা কমতে পারত। তাঁর বক্তব্য, সময়মতো এই ব্যবস্থা করা হলে মানুষকে বর্তমান পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

উষা কেশরীর মতে, বন্যার কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়া, খাবার ও পানীয় সামগ্রী এবং ওষুধ আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়ির সামগ্রী নিরাপদ রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পরিবারগুলির উদ্বেগ বেড়েছে।

সন্ধ্যার সময় জলে ঘেরা গলিগুলিতে যাতায়াত আরও কমে যায়। বাসিন্দারা প্রথম তলা এবং বারান্দা থেকে জলস্তরের দিকে নজর রাখছেন। স্থানীয়দের দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে প্রতি বার বন্যার সময় নৌকা ও অস্থায়ী ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে না হয়।

 

Leave a comment