Varicose Veins: পায়ে নীলচে শিরা, ভারী ভাব বা ঘা? অবহেলা নয়, কোন লক্ষণে বুঝবেন ভ্যারিকোজ ভেইন, কারা বেশি ঝুঁকিতে?

পায়ে নীলচে শিরা, ভারী ভাব, ব্যথা, ফোলাভাব বা দীর্ঘদিনের ঘা কি ভ্যারিকোজ ভেইনের লক্ষণ? জানুন রোগের উপসর্গ, কারা বেশি ঝুঁকিতে এবং কেন অবহেলা করা উচিত নয়।

পায়ের ত্বকের নিচে হঠাৎ চোখে পড়ছে নীলচে-বেগুনি আঁকাবাঁকা শিরা? সঙ্গে রয়েছে পায়ে ব্যথা, ভারী ভাব বা ফোলাভাব? তাহলে বিষয়টি শুধুই সৌন্দর্যের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। এগুলি ভ্যারিকোজ ভেইন-এর লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা সাধারণ হলেও দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে ত্বকের পরিবর্তন থেকে শুরু করে পায়ে ঘা বা আলসারের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।

কী এই ভ্যারিকোজ ভেইন?

ভ্যারিকোজ ভেইন হল এমন একটি অবস্থা, যেখানে শিরা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে এবং ত্বকের উপর দিয়ে নীল বা বেগুনি রঙের আঁকাবাঁকা, গিঁটের মতো শিরা দেখা যায়। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এটি হতে পারে, তবে পায়েই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।পায়ের শিরার ভালভ ঠিকভাবে কাজ না করলে রক্ত উপরের দিকে ফেরার পরিবর্তে নিচের দিকে জমতে শুরু করতে পারে। এর ফলে শিরায় চাপ বাড়ে এবং ধীরে ধীরে সেগুলি ফুলে ওঠে।

কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন?

ভ্যারিকোজ ভেইনের ক্ষেত্রে শুধু ফুলে ওঠা শিরাই নয়, আরও বেশ কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—

পায়ের ত্বকের রঙ বদলে যাওয়া

নীল বা বেগুনি আঁকাবাঁকা শিরা স্পষ্ট হয়ে ওঠা

পায়ে দীর্ঘস্থায়ী হালকা ফোলাভাব

পা ভারী বা ক্লান্ত লাগা

ব্যথা বা অস্বস্তি

পায়ে জ্বালাপোড়া

ত্বকে র‍্যাশ

পায়ে আলসার বা ঘা

দীর্ঘদিনেও না-সারা ক্ষত

বিশেষ করে পায়ের ত্বকের রঙ পরিবর্তনের সঙ্গে যদি ঘা তৈরি হয় এবং তা দীর্ঘদিনেও না শুকোয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

গর্ভবতী মহিলা

গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন ও রক্তসঞ্চালনে পরিবর্তনের পাশাপাশি বড় শিরাগুলির উপর চাপ বাড়তে পারে। ফলে পায়ের শিরায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়ে ভ্যারিকোজ ভেইনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অতিরিক্ত ওজনের মানুষ

অতিরিক্ত ওজন পায়ের শিরাগুলির উপর চাপ বাড়াতে পারে। আবার শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে ফুলে ওঠা শিরা সহজে চোখে নাও পড়তে পারে।

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন যাঁরা

একটানা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ের রক্তসঞ্চালনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস না থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিরা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিরার রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী ভালভগুলির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে পায়ে অকারণ ব্যথা, ফোলাভাব বা দৃশ্যমান শিরা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অবহেলা করলে কী হতে পারে?

প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্যারিকোজ ভেইন অনেকের ক্ষেত্রে খুব বেশি সমস্যা তৈরি না করলেও সময়ের সঙ্গে উপসর্গ বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে পায়ের ত্বকের রঙ পরিবর্তন, ত্বকের সমস্যা এবং আলসার বা দীর্ঘস্থায়ী ঘা তৈরি হতে পারে।খুব বিরল ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার মতো জটিলতাও হতে পারে। তাই পায়ে অস্বাভাবিক শিরা দেখা দিলে বা নিয়মিত ব্যথা-ফোলাভাব থাকলে নিজে থেকে বিষয়টি উপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

পায়ের শিরা ফুলে ওঠা, নীলচে বা বেগুনি রঙের আঁকাবাঁকা শিরা, পায়ে ভারী ভাব, ব্যথা, জ্বালাপোড়া কিংবা দীর্ঘদিনের ঘা—এগুলি ভ্যারিকোজ ভেইনের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। দীর্ঘদিন সমস্যা অবহেলা করলে ত্বকের রঙ বদলে যাওয়া বা আলসারের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা, অতিরিক্ত ওজনের মানুষ, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তি এবং বয়স্কদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

Leave a comment