বিক্রমশীলা সেতুর মেরামতের সময় কাদামাটিতে বসে গেল ক্রেন, স্তম্ভে ফাটলের খবর

বিহারের ভাগলপুরের বিক্রমশীলা সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্টিল গার্ডার বসানোর সময় কাদামাটিতে একটি ক্রেন বসে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। পাশাপাশি সেতুর স্তম্ভে ফাটল ও রড বেরিয়ে আসার খবর ঘিরে কাঠামোগত অবস্থা এবং মেরামতের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিক্রমশীলা সেতুর মেরামতের সময় কাদামাটিতে বসে গেল ক্রেন, স্তম্ভে ফাটলের খবর
Photo Credit / Attribution: Google

বিহারের ভাগলপুরের বিক্রমশীলা সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্টিল গার্ডার বসানোর কাজ চলাকালীন কাদামাটিতে একটি ক্রেন বসে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি সেতুর একটি স্তম্ভে ফাটল দেখা দেওয়া এবং রড বেরিয়ে আসার খবর ঘিরে মেরামতের কাজ ও কাঠামোগত অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিক্রমশীলা সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্টিল গার্ডার বসানোর কাজ চলছে। এই কাজে ভারী ক্রেন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানে গার্ডার পৌঁছে সঠিকভাবে স্থাপন করার পর সেতুর ওই অংশে রাস্তার নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রক্রিয়া চলাকালীন একটি ক্রেন কাদামাটিতে বসে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ক্রেনটি কতটা গভীরে বসে গিয়েছিল, সেটিকে উদ্ধার করতে কত সময় লেগেছিল এবং এই ঘটনার ফলে নির্মাণকাজ কতটা ব্যাহত হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

বিক্রমশীলা সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য পুরনো দুর্বল স্ল্যাব সরিয়ে নতুন স্টিল গার্ডার বসানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। মেরামতের প্রথম পর্যায়ে দুর্বল অংশগুলি সরানো হয়েছে। এরপর নতুন কাঠামো স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গঙ্গা নদীর ওপর ভারী কাঠামো স্থাপনের জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি এবং সতর্কতার সঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেতুর নিচে ও আশপাশের মাটির অবস্থা ভারী যন্ত্রপাতি নিরাপদে পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতুর একটি স্তম্ভে ফাটল দেখা দেওয়া এবং রড বেরিয়ে আসার খবর সামনে এসেছে। তবে ফাটলটি স্তম্ভের মূল কাঠামোগত অংশে, নাকি বাইরের সুরক্ষামূলক স্তরে রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

শুধু ছবি বা উপরিভাগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সেতুর কাঠামোগত শক্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এর জন্য প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা, ফাটলের প্রকৃতি নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশের কাঠামোগত অবস্থা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রশাসন ও নির্মাণকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হলে স্তম্ভের ফাটলের প্রকৃতি ও অবস্থা এবং অতিরিক্ত মেরামতের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

বিক্রমশীলা সেতু ভাগলপুরকে নবগছিয়া এবং উত্তর বিহারের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যুক্ত করেছে। গঙ্গা নদীর ওপর অবস্থিত এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় পরিবহণ, ব্যবসা এবং অন্যান্য জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ।

ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতের কাজ চলায় এই পথে যান চলাচল আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের বিকল্প রাস্তা এবং গঙ্গা পারাপারের অন্যান্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নির্মাণকাজে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কাজ ব্যাহত হলে যাতায়াতের অসুবিধা আরও বাড়তে পারে।

স্তম্ভে ফাটল ও রড বেরিয়ে আসার খবর এবং স্টিল গার্ডার বসানোর সময় ক্রেন কাদামাটিতে বসে যাওয়ার ঘটনা বিক্রমশীলা সেতুর মেরামতের কাজকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সেতুর প্রকৃত কাঠামোগত অবস্থা, ক্রেন বসে যাওয়ার কারণ এবং মেরামতের কাজ শেষ করার সময়সীমা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও সামনে আসেনি। এই বিষয়গুলিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নির্মাণকারী সংস্থার তথ্য প্রকাশের পরই পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Leave a comment