বর্ষার মরশুমে ঘরে ঘরে বাড়ছে ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ। জ্বর হলেই অনেকের খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। কিন্তু এই সময় শরীরের প্রয়োজন হয় আরও বেশি পুষ্টি ও তরলের। কারণ জ্বরের সময় শরীরের বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) বৃদ্ধি পায়, ফলে শক্তির চাহিদাও বেড়ে যায়। তাই দ্রুত সুস্থ হতে খাদ্যতালিকায় কী রাখবেন এবং কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন, তা জানা জরুরি।
![]()
জ্বরের সময় কেন বাড়ে BMR?
পুষ্টিবিদদের মতে, ভাইরাস বা অন্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং একই সঙ্গে বেড়ে যায় বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR)। অর্থাৎ শরীর স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি শক্তি খরচ করতে শুরু করে। তাই এই সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে দুর্বলতা দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে।
পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার সবচেয়ে জরুরি
জ্বরের সময় শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত জল পান করার পাশাপাশি ডাবের জল, ওআরএস, লেবুর জল, স্যুপ বা অন্যান্য তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ক্লান্তিও কমে।
![]()
সহজপাচ্য প্রোটিন রাখুন খাদ্যতালিকায়
দ্রুত সুস্থ হতে শরীরের প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রোটিন। তাই জ্বরের সময় সেদ্ধ ডিম, হালকা মাছ, সহজপাচ্য ডাল, টোফু বা সয়া চাঙ্কস খাওয়া যেতে পারে। যাঁদের কিডনি বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
পুষ্টিকর খাবার এড়িয়ে নয়, সঠিকভাবে খাওয়া জরুরি
অনেকেই জ্বরের সময় না খেয়ে বা খুব কম খেয়ে থাকেন। এতে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। অল্প অল্প করে বারবার ভাত, খিচুড়ি, সেদ্ধ সবজি, ফল এবং সহজপাচ্য খাবার খেলে শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায়। খাওয়ার ইচ্ছা কম থাকলেও দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা উচিত নয়।
দুধ খাওয়া যাবে?
অনেকের ধারণা, জ্বরের সময় দুধ খাওয়া উচিত নয়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, যদি দুধ খেয়ে কোনও অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা না হয়, তাহলে দুধও একটি ভালো পুষ্টিকর খাদ্য। এতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
![]()
কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?
জ্বরের সময় অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত, ভাজাভুজি, অতিরিক্ত মিষ্টি বা খুব ভারী খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। এগুলি হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। এছাড়া পর্যাপ্ত জল না খাওয়া বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকাও ক্ষতিকর হতে পারে।
![]()
ভাইরাল জ্বরে শরীরের বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) বেড়ে যাওয়ায় শক্তি, জল ও পুষ্টির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই শুধু ওষুধ নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসও দ্রুত সুস্থ হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি। পুষ্টিবিদদের মতে, সহজপাচ্য প্রোটিন, পর্যাপ্ত তরল ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে শরীর দ্রুত সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।








