ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে অনেকেই প্রথমেই ডাল খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ডাল শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার ও খনিজের উৎস। তবে সব ডালের পুষ্টিগুণ এক হলেও পিউরিনের পরিমাণ এক নয়। তাই ইউরিক অ্যাসিড বা গেঁটেবাতের রোগীদের ক্ষেত্রে ডাল বেছে খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ডাল পরিমিত পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ হলেও কয়েকটি ডালের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
![]()
মুগ ডাল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ
ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় মুগ ডালকে অন্যতম নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ধরা হয়। এটি সহজপাচ্য এবং অন্যান্য অনেক ডালের তুলনায় এতে পিউরিনের পরিমাণ কম। ফলে পরিমিত পরিমাণে মুগ ডাল খেলে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। বিশেষ করে অসুস্থতা বা হজমের সমস্যায়ও মুগ ডাল অনেক সময় চিকিৎসকেরা খাওয়ার পরামর্শ দেন।
মসুর ডাল খেতে হবে নিয়ন্ত্রণে
মসুর ডাল প্রোটিন, আয়রন এবং ফোলেটের ভালো উৎস হলেও ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। যদি ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে মসুর ডাল খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস এড়ানোই ভালো।
![]()
এই ৪ ধরনের ডাল ও শিমজাতীয় খাবারে সতর্ক থাকুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে কয়েকটি ডাল ও শিমজাতীয় খাবার খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
বিউলির (উড়দ) ডাল – এতে পিউরিনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। ঘন ঘন খেলে গেঁটেবাতের উপসর্গ বাড়তে পারে।
ছোলার ডাল ও কাবুলি ছোলা – প্রোটিনে সমৃদ্ধ হলেও বেশি পরিমাণে খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে।
রাজমা – স্বাস্থ্যকর হলেও গাউট রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
মটর ও অন্যান্য শিমজাতীয় ডাল – নিয়মিত বেশি খাওয়ার বদলে সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এগুলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
ডাল কি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?
এর উত্তর স্পষ্টভাবে 'না'। ডাল শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য। এতে থাকা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের নানা কাজে সাহায্য করে। তাই শুধুমাত্র ইউরিক অ্যাসিড বেড়েছে বলে ডাল পুরোপুরি বাদ দেওয়া উচিত নয়। বরং কোন ডাল কতটা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
![]()
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে শুধু ডাল নয়, বদলাতে হবে জীবনযাত্রাও
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত লাল মাংস, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ারও পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে গেঁটেবাতের ঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব।
![]()
বর্তমান সময়ে ইউরিক অ্যাসিড ও গেঁটেবাতের সমস্যায় ভুগছেন বহু মানুষ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস না মানলে এই সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ডাল ক্ষতিকর নয়। তবে কিছু ডালে পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকায় সেগুলি সীমিত পরিমাণে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কোন ডাল নিরাপদ এবং কোন ডাল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি, জেনে নিন বিস্তারিত।








