দক্ষিণ ভারতের মহানগর চেন্নাইয়ে হঠাৎ করেই শ’য়ে শ’য়ে কাকের মৃত্যু ঘিরে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রাস্তাঘাট, পার্ক ও আবাসিক এলাকায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে মৃত কাকের দেহ। শুরু হয়েছে জল্পনা—তবে কি আবার নতুন কোনও ভাইরাসের হানা? পরীক্ষার রিপোর্ট সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন।
মৃত কাকের শরীরে মিলল H5N1 ভাইরাস
চেন্নাইয়ের আদিয়ার এলাকা থেকে সংগৃহীত মৃত পাখির দেহের নমুনা পরীক্ষায় H5N1 হাইলি প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (HPAI) ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রের চিঠি তামিলনাড়ুর মুখ্যসচিবকে
HPAI শনাক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে তামিলনাড়ুর মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—এই ভাইরাস অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে সক্ষম এবং তা শুধু পাখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
কেন এতটা উদ্বেগজনক এই HPAI?
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে,
হাইলি প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (HPAI) পাখিদের মধ্যে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়। বিশেষ করে পোলট্রির ক্ষেত্রে এর প্রভাব ভয়াবহ। সংক্রমিত বা মৃত পাখির সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরেও সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
‘One Health’ নীতি মানার নির্দেশ
কেন্দ্র রাজ্যকে ‘ওয়ান হেল্থ’ (One Health) পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ—
মানব স্বাস্থ্য দফতর
পশুসম্পদ দফতর
বন ও বন্যপ্রাণ দফতর
এই তিন বিভাগের সমন্বয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ ও প্রাণি—উভয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি একসঙ্গে মোকাবিলা করা যায়।
কী করতে বলা হয়েছে সাধারণ মানুষকে?
কেন্দ্রীয় সতর্কবার্তায় স্পষ্ট নির্দেশ—
কেউ যেন মৃত পাখি স্পর্শ না করেন
কোথাও মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে জানান
মৃত পাখির দেহ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পুড়িয়ে ফেলা বা গভীরে পুঁতে দেওয়া বাধ্যতামূলক
এই কাজে সাধারণ মানুষকে নিজেরা উদ্যোগী না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চেন্নাইয়ে অস্বাভাবিক হারে কাকের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক। পরীক্ষায় মৃত পাখির দেহে মিলেছে H5N1 হাইলি প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (HPAI)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তামিলনাড়ু সরকারকে চিঠি দিয়ে একাধিক সতর্কতামূলক নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্র।









