গ্রামবাংলার জলাশয়ে ভাসমান কচুরিপানা—যাকে এতদিন শুধু আবর্জনা হিসেবেই দেখা হত—আজ সেই উদ্ভিদই এনে দিচ্ছে আর্থিক স্বাধীনতা। Bankura-র বড়জোড়া ও মেজিয়ার সাঁওতাল পাড়ার মহিলারা এই আগাছাকেই রূপ দিয়েছেন সোনার খনিতে।
‘ফেলনা’ থেকে ‘সম্পদ’, বদলে গেল দৃষ্টিভঙ্গি
একসময় কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হিমশিম খেতে হত গ্রামবাসীদের। কিন্তু এখন সেই একই উদ্ভিদই হয়ে উঠেছে জীবিকার নতুন রাস্তা। মালিয়াড়া ও বানজোড়া গ্রামের মহিলারা এই আগাছাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাচ্ছেন।
প্রশিক্ষণেই সাফল্যের চাবিকাঠি
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রশিক্ষণ। দিপালী মুর্ম্মু, সরলা মুর্ম্মুদের মতো বহু মহিলা জানান, এই ট্রেনিংই তাঁদের জীবনে টার্নিং পয়েন্ট। আগে গৃহবন্দি থাকলেও এখন তাঁরা দক্ষ কারিগর হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন।
কচুরিপানা থেকে তৈরি হচ্ছে দামী পণ্য
প্রথমে জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করা হয়, তারপর তা পরিষ্কার করে কয়েকদিন রোদে শুকোনো হয়। এই শুকনো উপাদানই পরে শক্ত ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। এরপর সেই উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ব্যাগ, প্লেট, হোম ডেকরসহ নানা পণ্য।
পরিবেশবান্ধব পণ্যে বাড়ছে চাহিদা
বিশেষ করে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ এখন বাজারে বেশ জনপ্রিয়। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে ধীরে ধীরে অন্য জেলাতেও পৌঁছে যাচ্ছে এই পণ্য। ফলে আয়ও বাড়ছে এই মহিলাদের।
মাসে হাজার হাজার টাকার আয়ের সম্ভাবনা
এই প্রকল্পের লক্ষ্য, প্রত্যেক মহিলার হাতে মাসে অন্তত ৮ হাজার টাকা তুলে দেওয়া। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সহায়তায় সেই লক্ষ্য পূরণের পথেই এগোচ্ছে এই উদ্যোগ।
আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি
শুধু অর্থ নয়, এই কাজ মহিলাদের আত্মবিশ্বাসও কয়েকগুণ বাড়িয়েছে। আগে যাঁরা নিজেদের অক্ষম ভাবতেন, এখন তাঁরাই পরিবারের আর্থিক মেরুদণ্ড। কচুরিপানা আর আগাছা নয়—এখন তা স্বপ্ন গড়ার উপকরণ।
একসময় জলাশয়ের অভিশাপ বলে পরিচিত কচুরিপানাই আজ হয়ে উঠেছে আয়ের হাতিয়ার। Bankura জেলার গ্রামাঞ্চলের মহিলারা কোনও বিনিয়োগ ছাড়াই এই আগাছা দিয়ে তৈরি করছেন দামী হস্তশিল্প, বদলে যাচ্ছে জীবনের গল্প।











