Water Man Iqbal: জল ছাড়লেই গায়ে অসহ্য জ্বালা! ২০-২৫ ফুট গভীর পুকুরে কাটত দিন-রাত, এখন হাসপাতালের বেডে কেমন আছেন ‘জলমানব’ ইকবাল?

মুর্শিদাবাদের ‘জলমানব’ ইকবাল জল থেকে উঠলেই অসহ্য জ্বালাপোড়ায় ভুগতেন। ২০-২৫ ফুট গভীর পুকুরে কাটত দিন-রাত। এখন মুম্বইয়ের রিলায়েন্স হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা।

মুর্শিদাবাদ: পুকুরের জলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে থাকা—বেলডাঙার ইকবালের কাছে এটাই হয়ে উঠেছিল জীবনের স্বাভাবিক রুটিন। জল থেকে শরীর বের করলেই শুরু হত অসহ্য জ্বালাপোড়া। সেই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতেই ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর পুকুরের জলে দিনের বড় একটা সময় কাটাতেন তিনি। এই অস্বাভাবিক জীবনযাত্রার কারণে পরিচিতি পান ‘জলমানব’ নামে। তবে এখন আর পুকুর নয়, মুম্বইয়ের রিলায়েন্স হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন তিনি।

Water Man Iqbal: জল ছাড়লেই গায়ে অসহ্য জ্বালা! ২০-২৫ ফুট গভীর পুকুরে কাটত দিন-রাত, এখন হাসপাতালের বেডে কেমন আছেন ‘জলমানব’ ইকবাল?
জল ছাড়লেই শুরু হত অসহ্য যন্ত্রণা

বেলডাঙা থানা এলাকার বাসিন্দা ইকবালের শরীরে কয়েক বছর আগে থেকেই অস্বাভাবিক কিছু উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। জল থেকে উঠলেই সারা শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া অনুভব করতেন তিনি। সাধারণভাবে যতক্ষণ জলেতে থাকতেন, ততক্ষণ সেই অস্বস্তি তুলনামূলকভাবে কম থাকত।ক্রমে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে পুকুরের জলই হয়ে ওঠে তাঁর আশ্রয়। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় ধরে জলে থাকতে বাধ্য হতেন ইকবাল।

২০-২৫ ফুট গভীর পুকুরেও থাকতেন

ইকবালের এই জীবনযাপন ছিল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। যে পুকুরে তিনি থাকতেন, তার গভীরতা প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট বলে জানা গিয়েছে। সেখানে সাপ, পোকামাকড়সহ বিভিন্ন ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকলেও জল থেকে উঠে আসার পর শরীরে যে অসহ্য জ্বালাপোড়া হত, তার কারণে সেই ঝুঁকিও নিতে হত তাঁকে।ইকবালের বক্তব্য ছিল, জলের মধ্যে শরীর ডুবিয়ে রাখলেই তিনি কিছুটা স্বস্তি পেতেন।

Water Man Iqbal: জল ছাড়লেই গায়ে অসহ্য জ্বালা! ২০-২৫ ফুট গভীর পুকুরে কাটত দিন-রাত, এখন হাসপাতালের বেডে কেমন আছেন ‘জলমানব’ ইকবাল?
ছোট বয়সেই বাবাকে হারান ইকবাল

ইকবালের জীবনযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আর্থিক প্রতিকূলতাও। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারান তিনি। এরপর পরিবারের আর্থিক অনটনের মধ্যেই বড় হয়ে ওঠেন।তার মধ্যেই শরীরে দেখা দেয় এই অস্বাভাবিক সমস্যা। ফলে বয়স কম হলেও স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে অনেকটাই দূরে চলে যেতে হয় তাঁকে।

সমস্যার কারণ নিয়ে চিকিৎসকদের কী মত?

ইকবালের শরীরে কেন এমন প্রতিক্রিয়া হয়, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এর পিছনে জেনেটিক অথবা হরমোন সংক্রান্ত কোনও কারণ থাকতে পারে।তবে শুধুমাত্র উপসর্গের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন বিশেষ কিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার জন্যই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মুম্বই নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এখন মুম্বইয়ের হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা

সংবাদমাধ্যমে ইকবালের সমস্যার কথা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে মুম্বইয়ের রিলায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন।

Water Man Iqbal: জল ছাড়লেই গায়ে অসহ্য জ্বালা! ২০-২৫ ফুট গভীর পুকুরে কাটত দিন-রাত, এখন হাসপাতালের বেডে কেমন আছেন ‘জলমানব’ ইকবাল?
ধীরে ধীরে খাওয়াদাওয়া করছেন

ইকবালের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাঁর পরিবারের তরফে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ধীরে ধীরে খাওয়াদাওয়া করছেন তিনি।পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। সেই সময় ইকবালের চোখে দেখা যায় কালো চশমা। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই আপাতত রয়েছেন তিনি।

কী জানালেন ইকবালের মা?

ইকবালের মা কামিরণ বিবি জানিয়েছেন, মুম্বইয়ের হাসপাতালে তাঁর ছেলের চিকিৎসা ভালোভাবেই চলছে। চিকিৎসকেরা নিয়মিত পরীক্ষা করছেন এবং তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।পরিবারের আশা, চিকিৎসায় ধীরে ধীরে ইকবালের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে। ভবিষ্যতে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন বলেও আশাবাদী তাঁরা।

পুকুর থেকে হাসপাতালের বেড—বদলেছে ঠিকানা

বছরের পর বছর ইকবালের দিন-রাত কেটেছে পুকুরের জলে। কারণটা ছিল কোনও শখ নয়, বরং জল থেকে বেরোলেই শুরু হওয়া অসহ্য শারীরিক অস্বস্তি।এখন অবশ্য তাঁর জীবনের সেই চেনা দৃশ্য বদলে গিয়েছে। পুকুরের জল ছেড়ে বর্তমানে হাসপাতালের বেডে রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন ‘জলমানব’ ইকবাল।

Water Man Iqbal: জল ছাড়লেই গায়ে অসহ্য জ্বালা! ২০-২৫ ফুট গভীর পুকুরে কাটত দিন-রাত, এখন হাসপাতালের বেডে কেমন আছেন ‘জলমানব’ ইকবাল?
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ‘জলমানব’ ইকবাল এখন মুম্বইয়ের রিলায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জল থেকে উঠলেই সারা শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হওয়ায় বছরের পর বছর পুকুরের জলে দীর্ঘ সময় কাটাতেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন ইকবাল। পরিবারও আশাবাদী, চিকিৎসার পর তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

Leave a comment