WB Elections 2026: ২৮ লক্ষ ভোট পেয়েও শূন্য আসন! ২০২১-এর ‘জিরো রেজাল্ট’-এর আসল কারণ সামনে আনল বিশ্লেষণ

২০২১ সালে সিপিআই(এম) ২৮ লক্ষ ভোট পেলেও একটিও আসন জিততে পারেনি। কেন এমন হল? মেরুকরণ নাকি ভোট বিভাজন—জানুন বিশ্লেষণ।

২০২১-এর নির্বাচনী ফল প্রকাশের পরই চমকে উঠেছিল রাজ্য রাজনীতি। লক্ষ লক্ষ ভোট পাওয়া সত্ত্বেও একটি আসনও পায়নি সিপিআই(এম)। ২০২৬-এর ভোটের আগে আবার সামনে আসছে সেই প্রশ্ন—কেন এমন ফল হয়েছিল? বিশ্লেষণে উঠে আসছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

২৮ লক্ষ ভোট, তবুও শূন্য আসন—অদ্ভুত সমীকরণ

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআই(এম) মোট প্রায় ২৮ লক্ষ ভোট পায়, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৪.৭%। এই সংখ্যা মোটেও নগণ্য নয়, তবুও একটি আসনেও জয়ের মুখ দেখেনি দল। ফলে ভোটের অঙ্ক ও আসন প্রাপ্তির মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়।

জোট রাজনীতি, তবুও ফল শূন্য

সেই নির্বাচনে সিপিআই(এম) কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করেছিল। তরুণ নেতৃত্ব—মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সৃজন ভট্টাচার্য, ঐশী ঘোষ-দের সামনে এনে নতুন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ভোটে প্রভাব ফেললেও আসনে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

কোথায় ছিল শক্ত ঘাঁটি? কিছু আসনে লড়াই জমেছিল

যাদবপুর, বেলগাছিয়া পূর্ব, বালিগঞ্জ, সিঙ্গুর, ডোমজুড়, উলুবেড়িয়া ও উত্তরপাড়া—এই সব আসনে তুলনামূলকভাবে ভালো ভোট পেয়েছিল সিপিআই(এম)। একাধিক কেন্দ্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থান দখল করে দল। বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনগুলিই ভবিষ্যতে বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি হতে পারে।

‘মেরুকরণ’-ই কি মূল কারণ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২১-এর নির্বাচনে মূল লড়াই ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি-র মধ্যে। এই তীব্র মেরুকরণের ফলে বিরোধী ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে সিপিআই(এম)-এর প্রাপ্ত ভোট আসনে রূপান্তরিত হতে পারেনি।

২০২৬-এর আগে নতুন সমীকরণ খোঁজার চেষ্টা

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে আবারও সেই ভোটব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করে নতুন করে কৌশল সাজাতে চাইছে বাম শিবির। কোথায় সংগঠন মজবুত, কোথায় জোট কার্যকর—এই হিসাব কষেই এগোতে চাইছে দল।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ২৮ লক্ষ ভোট পেয়েও একটিও আসন জিততে পারেনি সিপিআই(এম)। ভোট শতাংশ কম হলেও সমর্থন পুরোপুরি হারায়নি দল। তবে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভোট বিভাজনই ‘জিরো রেজাল্ট’-এর মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a comment