অভাব ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু হার মানেনি ইচ্ছাশক্তি। সীমিত সামর্থ্যের সংসারে থেকেও পড়াশোনাকে হাতিয়ার করে বড় সাফল্য অর্জন করলেন মালদহের সুমি পাল। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৭০ নম্বর পেয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পুরাতন মালদহের আহ্লাদমনি গার্লস হাইস্কুলের এই ছাত্রী। তাঁর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, পরিবারের ত্যাগ এবং অদম্য মানসিক জেদ।
টোটোর আয়েই চলত সংসার
সুমির বাবা উত্তম পাল পেশায় একজন টোটোচালক। দিনভর রাস্তায় টোটো চালিয়েই কোনওরকমে সংসারের খরচ সামলাতে হয় তাঁকে। মা একজন গৃহবধূ। সীমিত আয়ের সংসারে পড়াশোনার খরচ চালানো সহজ ছিল না। তবুও মেয়ের পড়াশোনায় কোনওরকম বাধা আসতে দেননি পরিবার।অভাবের মধ্যেও সুমি নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। প্রতিদিন নিয়ম করে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছেন তিনি। মাত্র তিনজন গৃহশিক্ষকের সহায়তায় নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছিলেন উচ্চমাধ্যমিকের জন্য।
৯৪ শতাংশ নম্বরে নজর কাড়ল সুমি
এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ৪৭০ নম্বর পেয়ে ৯৪ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছেন সুমি। বিভিন্ন বিষয়েও নজরকাড়া ফল করেছেন তিনি।বাংলায় পেয়েছেন ৯৫, ইংরেজিতে ৯০, ভূগোলে ৯৪, শিক্ষাবিজ্ঞানে ৯৭ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৯৪ নম্বর। ফল প্রকাশের পর থেকেই পরিবার থেকে শুরু করে প্রতিবেশীদের মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়।
আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন
নিজের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেই সবচেয়ে বড় বলে মনে করেন সুমি। তাঁর কথায়, বাবার কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের সমর্থন ছাড়া এই ফল সম্ভব হত না।সুমি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি আইনজীবী হতে চান। সমাজে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি আবৃত্তিও খুব পছন্দ করেন তিনি। তবে উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক সমস্যা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই মেধাবী ছাত্রী।
মেয়ের সাফল্যে গর্বিত বাবা
মেয়ের এমন সাফল্যে আবেগপ্রবণ বাবা উত্তম পালও। তিনি বলেন, সংসারে প্রচুর কষ্ট থাকলেও মেয়ের পড়াশোনায় কখনও বাধা দিতে চাননি। টোটো চালিয়ে কষ্ট করেই মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।উত্তমবাবুর কথায়, “মেয়ের এমন ফল সত্যিই গর্বের। ওর স্বপ্ন আইনজীবী হওয়া। যত কষ্টই হোক, মেয়ের স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকব।”
আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও লড়াই জারি
উচ্চশিক্ষার পথে এখনও অনেক আর্থিক অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবুও সুমির এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতি কোনওদিনই স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারে না।অদম্য পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে সাফল্যের পথ একদিন খুলবেই—মালদহের সুমি পালের গল্প যেন সেই বাস্তব উদাহরণ।
সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন নিত্যদিনের সঙ্গী। তবুও স্বপ্ন দেখা থামাননি মালদহের সুমি পাল। টোটোচালক বাবার মেয়ে এবারের উচ্চমাধ্যমিকে ৪৭০ নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছেন গোটা জেলার। ভবিষ্যতে আইনজীবী হয়ে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।













