পুজোর আগে ওজন কমানোর চেষ্টা শুরু করেছেন? কেউ জিমে যাচ্ছেন, কেউ খাবারের পরিমাণ কমাচ্ছেন, আবার কেউ খুঁজছেন সহজ কোনও ঘরোয়া উপায়। এই তালিকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মৌরি ও জিরা মেশানো জল। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস এই পানীয় খেলে শরীরের কী উপকার হতে পারে এবং ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এর ভূমিকা কতটা—জেনে নেওয়া যাক।
মৌরি-জিরার জল কেন এত জনপ্রিয়?
মৌরি ও জিরা ভারতীয় রান্নাঘরের পরিচিত দুটি মশলা। অনেকেই এগুলি সারারাত জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জল পান করেন। কেউ আবার অল্পক্ষণ ফুটিয়ে নিয়ে পান করেন।মৌরিতে ফাইবার ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। অন্যদিকে, জিরা দীর্ঘদিন ধরেই রান্নায় ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি হজমের সহায়ক মশলা হিসেবে পরিচিত।
হজমের সমস্যা ও পেট ফাঁপায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে
মৌরি ও জিরা দিয়ে তৈরি জল অনেকের কাছে হালকা একটি পানীয় হিসেবে পরিচিত। এর কারণে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের অভ্যাস তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি এই মশলাগুলির কিছু প্রাকৃতিক যৌগ হজমের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তিতেও কেউ কেউ এই পানীয় খেয়ে স্বস্তি পান। তবে প্রত্যেকের শরীরে এর প্রভাব এক রকম হবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ওজন কি সত্যিই দ্রুত কমে?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রয়েছে। মৌরি-জিরার জল খেলেই শরীরের জমে থাকা চর্বি ‘মোমবাতির মতো গলে’ যাবে বা ১৫ দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজন কমে যাবে—এমন দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।ওজন কমাতে মোট ক্যালোরি গ্রহণ, খাদ্যের গুণমান, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই পানীয়কে ওজন কমানোর মূল উপায় না দেখে স্বাস্থ্যকর রুটিনের একটি অংশ হিসেবে দেখা ভালো।
কীভাবে তৈরি করা যায়?
মৌরি ও জিরা দিয়ে সাধারণভাবে পানীয় তৈরি করতে অল্প পরিমাণে দুই মশলা জলে ভিজিয়ে রাখা যায়। চাইলে জল ফুটিয়েও নেওয়া যেতে পারে। এরপর ঠান্ডা বা হালকা গরম অবস্থায় পান করা যায়।তবে বেশি পরিমাণে মশলা ব্যবহার করলেই যে বেশি উপকার পাওয়া যাবে, এমন নয়। শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করাই গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু এই জল খেলেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে না
মৌরি-জিরার জলকে কোনওভাবেই সুষম খাবারের বিকল্প হিসেবে ধরা উচিত নয়। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, শস্য, প্রোটিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার রাখা জরুরি।ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলেও খাবার একেবারে বাদ দেওয়ার বদলে পরিমাণ ও খাবারের গুণমানের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মহিলাদের ক্ষেত্রেও কি উপকারী?
মৌরি নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণা রয়েছে যে এটি মাসিকের সময় পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই ধরনের ঘরোয়া পানীয়কে কোনও চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।জিরায় কিছু পরিমাণে আয়রন থাকলেও শুধু জিরা-জল পান করলেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়া দূর হবে—এমন দাবি সঠিক নয়। আয়রনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ এবং আয়রনসমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন হতে পারে।
কারা সাবধান থাকবেন?
মৌরি বা জিরা সাধারণ খাবারের উপাদান হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের পেটের অস্বস্তি হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই ভালো।যাঁদের কোনও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, নিয়মিত ওষুধ খান, কিংবা বিশেষ খাদ্যতালিকা মেনে চলেন, তাঁরা প্রতিদিন এই ধরনের ঘরোয়া পানীয় খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
ওজন কমানোর জন্য নানা ধরনের ঘরোয়া পানীয়ের কথা শোনা যায়। তার মধ্যে মৌরি ও জিরা ভেজানো বা ফুটানো জল বেশ জনপ্রিয়। হজমে সহায়তা ও পেট ফাঁপার অস্বস্তি কমাতে এটি কিছুটা উপকারী হতে পারে। তবে শুধু এই পানীয় খেলেই দ্রুত ওজন বা পেটের মেদ কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।













