মুম্বই ও চেন্নাইয়ের পর এবার কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম এসি লোকাল ট্রেনের উদ্বোধন হতে চলেছে ১০ অগস্ট শিয়ালদহ স্টেশনে। জানুন কেমন হবে কামরা, থাকবে স্বয়ংক্রিয় দরজা ও আধুনিক আসন।

প্রথমবার মুম্বইয়ে চালু হয়েছিল এসি লোকাল পরিষেবা। পরবর্তী পর্যায়ে তা ছড়ায় চেন্নাইতে। এবার এসে পৌঁছল বাংলায়। বহুদিন ধরেই এই প্রকল্প নিয়ে চলছিল পরিকল্পনা ও আলোচনা, কিন্তু অবশেষে তার রূপায়ণ হতে চলেছে ১০ অগস্টের উদ্বোধনের মাধ্যমে। পূর্ব রেলের মতে, এটি এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রাজ্যের নাগরিক পরিবহণ ব্যবস্থায়।

মুম্বই ও চেন্নাইয়ের পর এবার কলকাতা

চেন্নাইয়ের কারখানায় তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক কামরা

জানা গিয়েছে, চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে এই এসি লোকালের ১২টি কামরা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি কামরা আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি, যার ফলে তা দীর্ঘস্থায়ী এবং ঝাঁকুনিহীন পরিষেবা দিতে পারবে। কামরার আসনগুলি তৈরি হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে, যাত্রীদের ব্যাগ রাখার জন্য রয়েছে বিশেষ তাকের ব্যবস্থাও।

মুম্বই ও চেন্নাইয়ের পর এবার কলকাতা

মেট্রো-ধাঁচে স্বয়ংক্রিয় দরজা, বাড়তি নিরাপত্তা

এই এসি লোকালের বড় চমক হল এর স্বয়ংক্রিয় দরজা। মেট্রোর আদলে, নির্দিষ্ট স্টেশনে পৌঁছলেই দরজা খুলবে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তার দিক থেকে বড় সিদ্ধান্ত। ট্রেনের ভিতরে থাকছে উন্নত ভেন্টিলেশন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা গ্রীষ্মকালীন ভোগান্তির চিত্রই বদলে দেবে বলে পূর্ব রেল আশাবাদী।

গতি ও আরামের সংমিশ্রণ

প্রতিটি এসি লোকাল ট্রেন ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে বলে পূর্ব রেল সূত্রে জানানো হয়েছে। এর ফলে সময় বাঁচবে যাত্রীদের, এবং কম সময়েই দীর্ঘদূরত্বের যাত্রা সম্ভব হবে। এই ট্রেন মূলত শহরতলির যাত্রীদের আরামদায়ক ও সময়ানুগ পরিষেবা দিতে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।

মুম্বই ও চেন্নাইয়ের পর এবার কলকাতা

রুট ও ভাড়া এখনও অনিশ্চিত, তবে জল্পনা তুঙ্গে

এই ট্রেন কোন রুটে চলবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। একইসঙ্গে ভাড়ার কাঠামো নিয়েও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে রেল আধিকারিকদের মতে, উদ্বোধনের দিন কিছু ঘোষণা আসতে পারে। সম্ভাব্য রুট হিসেবে শিয়ালদহ–ডানকুনি বা শিয়ালদহ–বনগাঁ রুটকে নিয়ে আলোচনা চলছে।

রবিবার উদ্বোধন, সোমবার থেকেই যাত্রা শুরুর সম্ভাবনা

১০ অগস্ট, রবিবার উদ্বোধন হলেও ১১ অগস্ট, সোমবার থেকেই যাত্রী পরিবহণ শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এর ফলে অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী ও দৈনন্দিন যাত্রীদের কাছে এটি হতে চলেছে একটি বড় রেল উপহার।

মুম্বই ও চেন্নাইয়ের পর এবার কলকাতা

শহরের আধুনিকীকরণে এক নতুন অধ্যায়

কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থায় এই এসি লোকাল চালু হওয়া নিঃসন্দেহে এক মাইলফলক। মেট্রোর পর এটাই হতে চলেছে আরামদায়ক শহরতলি রেলের প্রথম অধ্যায়, যা যাত্রীদের ভিড়ের চাপ থেকে সাময়িক স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a comment