দার্জিলিং পাহাড়ে ভোট মানেই আলাদা উত্তেজনা। এবার সেই উত্তেজনা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে জোটের বদল। বিজেপি পুরনো সমীকরণ ভেঙে নতুন কৌশলে মাঠে নামতেই পাল্টা চাল দিচ্ছে তৃণমূলও। ফলে পাহাড়ের তিনটি আসনেই জমে উঠছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
পুরনো জোট ভেঙে নতুন সমীকরণ
দীর্ঘদিন ধরে জিএনএলএফ ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা—দুই পক্ষকেই সঙ্গে নিয়ে চলছিল বিজেপি। কিন্তু এবারে সেই সমীকরণে বড় বদল। জিএনএলএফ-কে কার্যত বাইরে রেখে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বাধীন মোর্চার সঙ্গে জোট গড়ে ভোটে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।
প্রার্থী তালিকায় চমক, নতুন মুখে ভরসা
এবারের প্রার্থী তালিকায় স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা গিয়েছে।
কার্শিয়াং আসনে বিজেপির প্রার্থী সোনম লামা
কালিম্পংয়ে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন ভারতীয় হকি অধিনায়ক ভরত ছেত্রীকে
দার্জিলিং আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মোর্চাকে, যেখানে নোমান রাই লড়বেন বিজেপির প্রতীকে
এই নতুন মুখ ও কৌশল পাহাড়ে ভোটের লড়াইকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।
২০২১-এর সমীকরণ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একসঙ্গে জিএনএলএফ ও মোর্চার সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। তখন দার্জিলিং ও কার্শিয়াং আসনে জয় পেলেও কালিম্পং হাতছাড়া হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কৌশল বদল করেছে বিজেপি।
তিন আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত
দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে এবার লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে। জোট বদল, নতুন প্রার্থী এবং স্থানীয় ইস্যু—সব মিলিয়ে প্রতিটি আসনেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের পাল্টা চালেও বাড়ছে উত্তাপ
শুধু বিজেপি-মোর্চা জোট নয়, তৃণমূলও পাহাড়ে নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে নতুন কৌশল নিচ্ছে। স্থানীয় নেতৃত্বকে সামনে এনে ভোটের ময়দানে শক্ত অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দার্জিলিং পাহাড়ে বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ। বিজেপি এবার জিএনএলএফ-কে দূরে সরিয়ে বিমল গুরুংয়ের মোর্চার সঙ্গে জোট বেঁধেছে। নতুন প্রার্থী তালিকা ও জোটের এই রদবদলে ভোটের লড়াই আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত।












