পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ চলমান রয়েছে। নির্ধারিত সময় সকাল ৭টা হলেও বহু এলাকায় ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকেই ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেন। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকায় মহিলা ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশার মধ্যে কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ও বিরোধের ঘটনা সামনে এসেছে, যার জেরে নিরাপত্তা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
হাওড়া জেলার বালি এলাকায় ইভিএমে প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে বিতর্ক বাড়লে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF) হস্তক্ষেপ করে এবং দুইজনকে আটক করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেশিন পরীক্ষা করে দ্রুত ঠিক করে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক করা হয়েছে।
নদিয়া জেলার চাপড়া এলাকায় এক বিজেপি এজেন্ট তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
![]()
পানিহাটি বিধানসভা আসনেও ইভিএমে ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ ভোট প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ করেছেন। এই আসনে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
ভবানীপুর আসনকে এই দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন।
দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৩.২ কোটি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। মোট ১৪৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ২২০ জন মহিলা প্রার্থী। নিরাপত্তার জন্য ২,৩২১টি কেন্দ্রীয় বাহিনী কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ৪১,০০০-এর বেশি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করেছে। নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য একাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
ভোট প্রক্রিয়ার মধ্যে SIR (Special Intensive Revision) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ ও সংযোজন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এই নির্বাচনে বেকারত্ব, দুর্নীতি ও পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে প্রচার চালানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাদ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রচার করেছেন।












