মগজাস্ত্রের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: নতুন এআই সেল চালু করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

মগজাস্ত্রের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: নতুন এআই সেল চালু করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এআই সেল:কলকাতা, ২৯ অক্টোবর থেকে ভবানী ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ এআই সেল। ডিজি রাজীব কুমারের তত্ত্বাবধানে এই সেলের মূল লক্ষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে অপরাধ দমন, তদন্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি। দেশজুড়ে আকোলা পুলিশের “প্রজেক্ট ত্রিনেত্র”-র মতো উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশও এই পথে হাঁটল, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পুলিশিং আরও প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভবানী ভবনে আধুনিক এআই সেল চালু

গত ২৯ অক্টোবর থেকে ভবানী ভবনে চালু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এআই সেল। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জানিয়েছেন, পুলিশকে এআই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে হবে এবং যেসব “বেস্ট প্র্যাক্টিস” বিশ্বজুড়ে চালু রয়েছে, সেগুলিতে দক্ষতা বাড়িয়ে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে হবে।এই সেলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরাসরি ডিজির হাতে। পাশাপাশি, প্রতি ১৫ দিনে একবার করে মিটিং হবে অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন সুষ্ঠুভাবে এগোয়।

পাইলট প্রজেক্টে সূক্ষ্ম তদন্তে নতুন দিগন্ত

ডিজির অর্ডার অনুযায়ী, কয়েকটি পাইলট এআই প্রজেক্ট চালু করা হবে। এসব প্রজেক্টের মাধ্যমে দেখা হবে— এআই প্রযুক্তি কীভাবে তদন্তের সময় কমাচ্ছে ও নিখুঁততা বাড়াচ্ছে। যদি পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ফল ইতিবাচক হয়, তবে তা রাজ্যের সব থানায় প্রয়োগ করা হবে।এক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রযুক্তি পুলিশের তদন্তে “ডেটা-ড্রিভেন ডিসিশন” নিতে সাহায্য করবে এবং ভবিষ্যতে অপরাধ প্রতিরোধেও বড় ভূমিকা রাখবে।

সাইবার নয়, প্রতিরোধেও এআই-এর ব্যবহার

পুলিশ সূত্রের দাবি, এআই মানেই কেবল সাইবার অপরাধ নয়। এক শীর্ষ অফিসার বলেন, অপরাধ ঘটার পর তদন্তই নয়, অপরাধ প্রতিরোধও পুলিশের কাজ। তাই এআই প্রযুক্তি দিয়ে অপরাধের সম্ভাবনা আগেভাগে নির্ণয় করাই এখন লক্ষ্য।অর্থাৎ, এআই মডেল এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে পুনরাবৃত্ত অপরাধীর ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সন্দেহভাজনদের নড়াচড়া এবং অপরাধপ্রবণ এলাকা নিরীক্ষণ করা যায়।

মহারাষ্ট্রের ‘ত্রিনেত্র’ মডেলই অনুপ্রেরণা

মহারাষ্ট্রের আকোলা পুলিশের ‘প্রজেক্ট ত্রিনেত্র’ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সেই মডেলে রিপিট অফেন্ডারদের তথ্য ও ক্রাইম ট্র্যাজেক্টরি বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ডে সম্ভাব্য ঝুঁকি স্কোর তৈরি হয়।২০১৮ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অর্চিত চন্দক তৈরি করেছেন এই মডেল, যা অপরাধ প্রতিরোধে সাড়া ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের শীর্ষ কর্তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে রাজ্যেও তেমনই মডেল প্রয়োগ করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করবে এআই সেল

নতুন গঠিত এআই সেলের চেয়ারম্যান থাকবেন এডিজি পদমর্যাদার অফিসার, মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে থাকবেন একজন আইজি, ডিআইজি বা এসপি। এছাড়া থাকবেন দু’জন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, যাঁরা প্রয়োজনে বাইরের বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে পারবেন।এই সেলের জন্য সব রকম প্রশাসনিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়া যাবে, যাতে ভবিষ্যতে বড় আকারে এআই ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে যুক্ত হল আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর ভবানী ভবনে শুরু হয়েছে বিশেষ এআই সেল, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পুলিশি কাজকে আরও নিখুঁত, দ্রুত ও নাগরিকবান্ধব করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিজি রাজীব কুমারের নির্দেশেই এই উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

Leave a comment