রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে এমন নাটকীয় পরিবর্তন আগে খুব কমই দেখা গেছে। সোমবার যেখানে মুখ্য নির্বাচনী দপ্তর জানাচ্ছিল এমন বুথের সংখ্যা ২২০৮, বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যাই নেমে দাঁড়াল মাত্র ৭। তথ্যের এই বিরাট অমিল প্রশাসন থেকে রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে—এই ‘অদৃশ্য’ বুথ-বদলের কারণ কী?
![]()
ভূতুড়ে পতন: তিন দিনে ২২০৮ → ৪৮০ → ২৯ → ৭
বৃহস্পতিবার কমিশনের প্রকাশিত নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন বুথের সংখ্যা যেখানে গত এক বছরে কোনও ভোটার মারা যাননি, নিখোঁজ হননি বা বাইরে চলে যাননি—তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭-এ।মাত্র ৭২ ঘণ্টায় তিন দফায় পরিবর্তিত তথ্য—এত দ্রুত ডেটা বদল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরাও।
কোন জেলায় কত বুথ? কমিশনের প্রকাশিত তালিকা
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী—
জলপাইগুড়ি: ১
মালদহ: ২
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ১
হাওড়া: ১
পশ্চিম মেদিনীপুর: ১
পুরুলিয়া: ১
মোট বুথ সংখ্যা: ৭।
ডিজিটাইজেশন শেষে বাধ্যতামূলক মুচলেখা জমা, জানাল কমিশন
সব এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজড হওয়ার পর BLOদের একটি মুচলেখা জমা দিতে হবে যেখানে থাকবে সব দলের BLAদের সই। সঙ্গে সিইও দপ্তর থেকে পাঠানো খামে BLOদের কাজের প্রশংসা জানিয়ে ‘কুর্নিশ’ও করেছে কমিশন। তবে তথ্যগত এই বিভ্রান্তি নিয়ে প্রশ্ন এড়াতে পারেনি তারা।
![]()
সোমবারের রিপোর্টে সন্দেহজনক তথ্য: এবার ফের বদল
সোমবার জানানো হয়েছিল—২২০৮টি বুথে এক বছর ধরে কোনও পরিবর্তন হয়নি।সঙ্গে আরও ৫৮০০ বুথে ‘আনকালেক্টেবল’ ফর্মের তথ্য উঠে এসেছিল।তখনই কমিশনের আধিকারিকরা বিষয়টিকে ‘সন্দেহজনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।পরদিন থেকে শুরু হয় পরিসংখ্যান বদলের ধারাবাহিকতা।
রাজনৈতিক তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী, তৃণমূলের সরাসরি আক্রমণ
তথ্য বিভ্রাট নিয়ে তৃণমূলের কটাক্ষ আরও তীব্র। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন—“ইয়ার্কি মারছেন? বিজেপির হাতে তামাক খেতে গিয়ে একবার এক কথা, আরেকবার অন্য কথা! কমিশনের নামের তলায় বরং লিখে দিন—এটি বিজেপির শাখা।”বিরোধীরা দাবি তুলেছে, এই পরিসংখ্যান বদলের কারণ স্পষ্ট করা হোক।
![]()
এক বছরে মৃত, নিখোঁজ বা স্থানান্তরহীন ভোটারের বুথের সংখ্যা রাজ্যে ২২০৮ থেকে নেমে মাত্র ৭। নির্বাচন কমিশনের নতুন পরিসংখ্যান রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। জলপাইগুড়ি, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া—এই ছ’টি জেলায় রয়েছে এই বিশেষ ক্যাটেগরির বুথ।












