সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ফের বদলাল দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার মেজাজ। বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে সরে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাতেও। বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার জোড়া সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে। এর মধ্যে চার জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও করা হয়েছে।
কোথায় অবস্থান করছে নিম্নচাপ?
আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল।নিম্নচাপের সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পরবর্তী সময়ে সিস্টেমটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছে।এর পাশাপাশি মৌসুমী অক্ষরেখার অবস্থানও নিম্নচাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
চার জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
১২ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে—
পূর্ব মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুর
ঝাড়গ্রাম
বাঁকুড়া
এই চার জেলার এক বা দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া কোথায়?
বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ঘণ্টায় প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বরও থাকবে বৃষ্টির সম্ভাবনা
১২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকছে।
এর পরের ২৪ ঘণ্টাতেও অর্থাৎ ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাঝ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কি বৃষ্টি চলবে?
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।১৭ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যেও কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ নিম্নচাপের প্রভাব কাটলেও একেবারে দ্রুত দক্ষিণবঙ্গ থেকে বৃষ্টির পরিস্থিতি সরে যাচ্ছে না।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোথায় কত বৃষ্টি?
১১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের মধ্যে ছিল—
নলহাটি, বীরভূম — ৭ সেমি
কাঁথি — ৪ সেমি
আলিপুর, কলকাতা — ৪ সেমি
তাঁতলোই, বীরভূম — ৩ সেমি
শ্রীনিকেতন — ৩ সেমি
নারায়ণপুর — ৩ সেমি
মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান — ৩ সেমি
হরিণখোলা, হুগলি — ৩ সেমিঅর্থাৎ নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই বৃষ্টির দাপট দেখা গিয়েছে।
বজ্রপাত নিয়ে সতর্কতা, সমুদ্রেও নিষেধাজ্ঞা
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিচু এলাকায় জল জমার পাশাপাশি কৃষিজমির ফসল ও উদ্যানপালনের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।অন্যদিকে সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনার কারণে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বাংলাদেশ উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে খোলা মাঠে না থাকার এবং গাছের নিচে বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় বেরোলেও ঝোড়ো হাওয়া ও জল জমার পরিস্থিতি মাথায় রেখে সতর্কভাবে চলাচল করার পরামর্শ রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু জায়গায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।












