মাথার চুলে এক-দু’টি সাদা চুল দেখা যেতেই অনেকের দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে যায়। বয়স কম অথচ চুল দ্রুত সাদা হয়ে যাচ্ছে—এমন সমস্যাও এখন বেশ পরিচিত। যদিও সব ক্ষেত্রে চুল পাকা আটকানো সম্ভব নয়, তবে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা উপকারী হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কয়েকটি পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি।
কেন অল্প বয়সে চুল সাদা হয়?
চুলের স্বাভাবিক রং মূলত মেলানিন নামের রঞ্জকের ওপর নির্ভর করে। বয়স, বংশগত প্রবণতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের মতো বিভিন্ন কারণ চুলের অকালপক্বতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, আয়রন, কপার বা জিঙ্কের মতো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও কিছু ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।তবে মনে রাখতে হবে, চুল পাকার কারণ ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হতে পারে। তাই শুধু খাবার পরিবর্তন করলেই সাদা চুল আবার কালো হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
কোন ৭ ধরনের খাবার রাখতে পারেন ডায়েটে?
ডিম
ডিমে রয়েছে প্রোটিনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। চুলের গঠন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ।
মাছ
মাছ প্রোটিনের ভালো উৎস। কিছু মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে।
শাকসবজি
বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাক ও রঙিন সবজিতে ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। নিয়মিত শাকসবজি খাওয়া সুষম ডায়েটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ফল
ফলে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে মরশুমি ফল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার থেকে প্রোটিন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। তবে যাঁদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।
বাদাম
কাজু, আমন্ড, আখরোটের মতো বাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে। পরিমাণমতো বাদাম খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে।
বীজজাতীয় খাবার
তিল, কুমড়োর বীজ, সূর্যমুখীর বীজের মতো খাবারে বিভিন্ন খনিজ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাওয়া যায়। পরিমিত পরিমাণে এগুলি দৈনন্দিন ডায়েটে রাখা যেতে পারে।
শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনেও নজর দিন
অকালপক্বতা কমানোর ক্ষেত্রে শুধু একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত জল পান এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে। একইসঙ্গে চুলে অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী বা রং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার।অনেকে নারকেল তেল, আমলকী বা কারিপাতার তেল ব্যবহার করেন। তবে এসব ঘরোয়া উপায়ে চুল পাকা বন্ধ হওয়ার বিষয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই এগুলিকে নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে না দেখাই ভালো।
হঠাৎ চুল পাকা শুরু হলে কী করবেন?
অল্প বয়সে আচমকা প্রচুর চুল সাদা হয়ে গেলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ কিছু পরীক্ষা করে ভিটামিনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্য কোনও শারীরিক কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পারেন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পাকা স্বাভাবিক হলেও বর্তমানে অনেকেরই কম বয়সে চুলে পাক ধরছে। বংশগত কারণের পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও কিছু শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও এর যোগ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।













