বর্তমান ডিজিটাল যুগে ঘরে-বাইরে প্রায় সকলেই Wi-Fi ব্যবহার করেন। একবার কানেক্ট করার পর অনেকেই বছরের পর বছর একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে চলেন। সুবিধাজনক মনে হলেও এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো Wi-Fi পাসওয়ার্ড হ্যাকিং ও ডেটা চুরির অন্যতম বড় কারণ।

সহজ অ্যাক্সেসেই শুরু বিপদ
দীর্ঘদিন পাসওয়ার্ড না বদলালে সেই Wi-Fi নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা অন্যদের জন্য অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। একসময় যাঁদের সঙ্গে পাসওয়ার্ড শেয়ার করা হয়েছিল, তাঁদের হাত ঘুরে সেটি আরও অনেকের কাছে পৌঁছে যেতে পারে—আপনার অজান্তেই।
ইন্টারনেটের গতি কেন হঠাৎ কমে যায়?
একটি Wi-Fi নেটওয়ার্কে যত বেশি ডিভাইস যুক্ত হয়, ব্যান্ডউইথ তত বেশি ভাগ হয়ে যায়। অচেনা বা অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং কিংবা অফিসের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

বাড়ছে হ্যাকিং ও ডেটা চুরির ঝুঁকি
পুরনো ও পরিচিত পাসওয়ার্ড সাইবার অপরাধীদের জন্য সহজ টার্গেট। সাধারণ প্যাটার্ন বা আগেই ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে হ্যাকাররা সহজেই Wi-Fi নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়তে পারে এবং ব্যক্তিগত ডেটা চুরি করতে পারে।
স্মার্ট ডিভাইস হাইজ্যাক হওয়ার আশঙ্কা
আজকাল বাড়িতে স্মার্ট টিভি, CCTV ক্যামেরা, স্মার্ট স্পিকার থেকে শুরু করে নানা IoT ডিভাইস Wi-Fi-এর উপর নির্ভরশীল। দুর্বল নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা এই ডিভাইসগুলিতে ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

ম্যালওয়্যার ছড়ানোর বড় মাধ্যম Wi-Fi
একটি সংক্রমিত ডিভাইস যদি আপনার নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে, তাহলে সেই ম্যালওয়্যার সহজেই অন্য ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ডিভাইস স্লো হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।
আইনি ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে নয়
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হল আইনি সমস্যা। আপনার Wi-Fi ব্যবহার করে কেউ যদি অনলাইন জালিয়াতি বা সাইবার অপরাধ করে, তাহলে তদন্তের আওতায় আপনাকেও পড়তে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই নেটওয়ার্ক মালিককেও জবাবদিহি করতে হয়।

দীর্ঘদিন Wi-Fi পাসওয়ার্ড পরিবর্তন না করলে শুধু ইন্টারনেটের গতি কমে না, বাড়ে হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার ও স্মার্ট ডিভাইস হাইজ্যাকের ঝুঁকি। এমনকি আইনি জটিলতাতেও পড়তে পারেন ইউজাররা। কেন নিয়মিত Wi-Fi পাসওয়ার্ড বদলানো জরুরি, জানুন বিস্তারিত।













