কলকাতার গডরেজ ওয়াটারসাইডে I-PAC অফিসে ইডি তল্লাশি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলার সূত্রে শুরু হওয়া এই অভিযানের মাঝেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন তিনি। আর সেই মুহূর্তেই বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আইনের ক্ষমতাবলে ইডির উচিত মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া।

ইডি তল্লাশি ও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন
I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চলাকালীন সেখানে পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশির মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানে তাঁর হস্তক্ষেপ কতটা যুক্তিসঙ্গত— তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ মমতার
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সবুজ রঙের একটি ফাইল হাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এই তল্লাশি। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী তালিকা ও রাজনৈতিক পরিকল্পনার হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
I-PAC অফিসমুখী মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী শিবিরে ক্ষোভ
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে সরাসরি I-PAC-এর অফিসে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক সেই সময়েই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকা অসাংবিধানিক এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে সরাসরি বাধাদানের শামিল।

‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন’, কড়া বার্তা শুভেন্দুর
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তদন্তে এভাবে হস্তক্ষেপ করা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অবমাননা।” তাঁর দাবি, অতীতেও কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার নজির রয়েছে এবং এবার ইডির উচিত আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া।
পুরনো ধরনা-রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ
নিজের বক্তব্যে ২০২১ সালের নিজাম প্যালেস ও সারদা মামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন শুভেন্দু। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় তদন্তের বিরোধিতা করে আগেও মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ধরনায় বসেছিলেন। তাঁর মতে, এই প্রবণতা তদন্ত ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং আইনের শাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। তল্লাশির মাঝেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই অভিযান। পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর— মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধাদানের অভিযোগ তুলে ইডির পদক্ষেপ দাবি।










