জানুয়ারির শুরুতেই হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কামড়। সকাল-সন্ধ্যায় কুয়াশা, শীতল হাওয়া আর কম তাপমাত্রায় নাজেহাল জনজীবন। এই সময়ে শুধু গরম জামাকাপড় নয়, শরীরকে ভিতর থেকে উষ্ণ রাখা সবচেয়ে জরুরি। আর সেখানেই বড় ভূমিকা নেয় প্রতিদিনের খাবার। কোন কোন খাবার শীতে শরীর গরম রাখতে সবচেয়ে কার্যকর? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
শীতের সবজি: স্যুপ ও রোস্টেই মিলবে উষ্ণতা
পুষ্টিবিদ দেবাশিস মণ্ডলের মতে, শীতকালে শালগম, বিট, রাঙা আলু ও গাজরের মতো শীতকালীন সবজি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই সবজি দিয়ে তৈরি গরম স্যুপ বা হালকা রোস্ট শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে এবং হজমেও সহায়ক।
দেশি ঘি: অল্পেই মিলবে বড় উপকার
গরম ভাত, ডাল কিংবা রুটির সঙ্গে অল্প পরিমাণ দেশি ঘি মিশিয়ে খেলে শরীর উষ্ণ থাকে। পাশাপাশি পিত্তের সমস্যা কমাতেও ঘি কার্যকর বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
হলুদ ও হলুদ দুধ: প্রাচীন টোটকায় আধুনিক সমাধান
তরকারিতে হলুদের ব্যবহার তো রয়েছেই, পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে হলুদ মেশানো গরম দুধ শীতে শরীর গরম রাখতে দারুণ কাজ দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
খেজুর ও গুড়: প্রাকৃতিক তাপের উৎস
দিনে কয়েকটি খেজুর বা খাবার পর সামান্য গুড় খেলে শরীরের ভিতরের উষ্ণতা বজায় থাকে। সঙ্গে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে।
আদা ও পেঁয়াজ: শীতের ঘরোয়া ওষুধ
আদা শরীরের তাপ বাড়ানোর পাশাপাশি সর্দি-কাশি কমাতে সাহায্য করে। আবার পেঁয়াজ প্রাচীনকাল থেকেই ঠান্ডার বিরুদ্ধে কার্যকর খাদ্য হিসেবে পরিচিত। স্যুপ, স্যালাড বা রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
সর্ষে ও সর্ষের তেল: বাঙালির শীতের সঙ্গী
শীতে সর্ষে বাটা দিয়ে ভাত কিংবা তরকারি যেমন শরীর গরম রাখে, তেমনই সর্ষের তেল দিয়ে মালিশ করলে বাইরের ঠান্ডা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
মধু-তুলসি ও ড্রাই ফ্রুটস: রোগ প্রতিরোধে ঢাল
মধুর সঙ্গে তুলসি পাতা খেলে সর্দি-কাশি কমে। পাশাপাশি বাদাম, কাজু, শুকনো ডুমুর ও এপ্রিকটের মতো ড্রাই ফুড শীতে শরীর উষ্ণ রাখার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।
শীতের দাপটে যখন কাঁপছে বঙ্গ, তখন শরীর সুস্থ ও উষ্ণ রাখতে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য বদলই হতে পারে বড় সমাধান। পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খেলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের তাপমাত্রা বজায় থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।













