শীত এলেই আমরা পোশাক থেকে খাবার—সবকিছুতেই পরিবর্তন আনি। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়—রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা সেটিং। বাইরে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও যদি ফ্রিজ গ্রীষ্মের মতো অতিরিক্ত ঠান্ডা রাখা হয়, তাহলে তা শুধু বিদ্যুৎ বিলই বাড়ায় না, বরং ফ্রিজের আয়ুও কমিয়ে দেয়।
শীতে অতিরিক্ত ঠান্ডা কেন ক্ষতিকর?
শীতকালে বাইরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। এই সময় ফ্রিজকে অতিরিক্ত ঠান্ডা করলে খাবার জমে যাওয়া, শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি কম্প্রেসার অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘক্ষণ কাজ করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
ডায়াল ফ্রিজে কোন সেটিং আদর্শ?
বেশিরভাগ নন-ডিজিটাল ফ্রিজে ডায়াল কন্ট্রোল থাকে (০–৫ বা ১–৭)। মনে রাখবেন—সংখ্যা যত বেশি, ঠান্ডা তত বেশি।
গ্রীষ্মে: ৪–৫
শীতে: ২–৩
এই সেটিং খাবার ভালো রাখে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।
ডিজিটাল ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা কত?
ডিজিটাল মডেলের ক্ষেত্রে ডিগ্রি অনুযায়ী সেট করাই সবচেয়ে ভালো—
রেফ্রিজারেটর: ৩°C – ৪°C
ফ্রিজার: –১৮°C থেকে –২০°C
এই তাপমাত্রায় খাবার টাটকা থাকে, কিন্তু জমে যায় না।
গরম খাবার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজে রাখবেন না
অনেকেই রান্না শেষ করেই খাবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেন। এটি বড় ভুল। গরম খাবার আগে ঘরের তাপমাত্রায় ঠান্ডা হতে দিন। না হলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, বাড়ে বিদ্যুৎ খরচ।
দরজা খোলার অভ্যাস বদলান
ঘন ঘন ফ্রিজের দরজা খোলা মানেই ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যাওয়া। ফলে ফ্রিজ আবার ঠান্ডা করতে বেশি শক্তি ব্যবহার করে। ফল? বিদ্যুৎ বিল লাফিয়ে বাড়ে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক বায়ুচলাচল জরুরি
সপ্তাহে অন্তত একবার ফ্রিজ পরিষ্কার করুন
ফ্যান ও এয়ার ভেন্টে ধুলো জমতে দেবেন না
ফ্রিজের পিছনে সামান্য ফাঁকা জায়গা রাখুন
অতিরিক্ত জিনিস করে ভরবেন না
এতে মোটর ঠান্ডা থাকবে ও কর্মক্ষমতা বাড়বে।
কতটা সাশ্রয় সম্ভব?
এই ছোট ছোট নিয়ম মানলেই কম্প্রেসারের চাপ কমে এবং বিদ্যুৎ খরচ ১৫–২০% পর্যন্ত কমতে পারে। একইসঙ্গে ফ্রিজ দীর্ঘদিন মসৃণভাবে চলবে।
শীতকালে অনেকেই ফ্রিজের তাপমাত্রা বদলাতে ভুলে যান। গ্রীষ্মের মতো একই সেটিং রাখলে বাড়ে বিদ্যুৎ বিল, কমে ফ্রিজের কার্যকারিতা। শীতের জন্য সঠিক তাপমাত্রা ও কিছু সহজ নিয়ম মানলেই কমবে খরচ, দীর্ঘদিন ভাল থাকবে রেফ্রিজারেটর।













