Hernia in Women: মহিলাদের হার্নিয়া কোন বয়সে, কোথায় এবং কেন বেশি হয়—তা এখনও অনেকেরই অজানা। নয়াদিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ভারতে মহিলাদের হার্নিয়া প্রায়ই দেরিতে ধরা পড়ে কারণ রবিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তলপেটে টান বা কুঁচকির ব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান রোগীরা। এই কারণে হার্নিয়া বড় হয়ে যায় এবং জটিলতা বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সনাক্তকরণই ঝুঁকি কমানোর একমাত্র উপায়।

হার্নিয়াকে ‘পুরুষদের রোগ’ ভাবার ভুল ধারণা
ভারতে অনেকেরই বিশ্বাস, হার্নিয়া মূলত পুরুষদের হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণাই মহিলাদের জন্য বিপজ্জনক। কারণ ভুল ধারণার কারণে মহিলারা উপসর্গকে গুরুত্ব দেন না। ফলে সময়মতো রোগ ধরা পড়ে না এবং হার্নিয়া বড় আকার নেয়।চিকিৎসকরা জানান, মহিলাদের ক্ষেত্রে উপসর্গগুলি অপেক্ষাকৃত জটিল এবং অন্য রোগের সঙ্গে মিলে যাওয়ার কারণে নির্ণয়ে দেরি হয়।

কেন মহিলাদের উপসর্গ আলাদা ও বিভ্রান্তিকর
মহিলাদের ক্ষেত্রে হার্নিয়ার সাধারণ স্ফীতিভাব অনেক সময় দেখা যায় না। তার পরিবর্তে দেখা দেয়—
তলপেটে টান
কুঁচকিতে ব্যথা
হাঁটাচলা বা ভার তোলার সময় অস্বস্তি
এই উপসর্গগুলি প্রায়ই ডিম্বাশয়ের সিস্ট, ফাইব্রয়েড, মূত্রনালির সংক্রমণ বা পেলভিক পেশির টানের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে রোগী বিভ্রান্ত হন এবং চিকিৎসা নিতে দেরি করেন।
গর্ভাবস্থা ও প্রসব–ঝুঁকিকে আরও বাড়ায়
গর্ভাবস্থায় পেটের পেশি প্রসারিত হয়। এর ফলে সেই অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হার্নিয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আবার ডেলিভারির পর নবমায়েরা
শিশুকে কোলে নেওয়া
ভারী ব্যাগ তোলা
বাড়ির কাজকর্ম
এগুলো করতে গিয়ে পেটের দেয়ালে বাড়তি চাপ তৈরি করেন। সিজারিয়ানের কাটা অংশও অনেক সময় দুর্বল হয়ে ইনসিশনাল হার্নিয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

মহিলাদের দৈনন্দিন অভ্যাসও বাড়ায় ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ অভ্যাস হার্নিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়—
দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে থাকা
বাজারের ভারী ব্যাগ বহন
অতিরিক্ত ওজন
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য
এগুলো দৈনন্দিন জীবনের অংশ হওয়ায় বেশিরভাগ মহিলাই এগুলির গুরুত্ব বোঝেন না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এগুলো পেটের পেশিকে দুর্বল করে হার্নিয়ার পথ খুলে দিতে পারে।
কেন রোগ নির্ণয় কঠিন হয়ে ওঠে
মহিলাদের ক্ষেত্রে ইনগুইনাল হার্নিয়া সাধারণত ছোট আকারে থাকে এবং পেলভিসের গভীরে অবস্থান করে। এজন্য শুয়ে থাকা অবস্থায় আল্ট্রাসাউন্ডেও তা ধরা পড়ে না।দাঁড়িয়ে থাকা বা কাশি দেওয়ার সময় হার্নিয়া চিহ্নিত করা সহজ, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এই ধাপগুলি উপেক্ষিত হয়।

ভারতে মহিলাদের হার্নিয়া দেরিতে ধরা পড়ে কারণ উপসর্গগুলি ডিম্বাশয়ের সিস্ট বা পেলভিক ব্যথার মতো সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়। অনেকেই অস্বস্তিকে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা করেন। চিকিৎসকদের মতে, তলপেটে টান, কুঁচকিতে ব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তিকে কখনওই হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়।













