ওয়ার্ল্ড ব্যাংক রিপোর্টে ২০২৬ সালে সোনার দাম ৪,৭০০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছানোর পূর্বাভাস, ২০২৭ সালে পতনের সম্ভাবনা

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কমোডিটি মার্কেট আউটলুক রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৬ সালে সোনার দাম প্রায় ৪,৭০০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছাতে পারে এবং ২০২৭ সালে প্রায় ৮.৫% কমে ৪,৩০০ ডলার হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাম্প্রতিক কমোডিটি মার্কেট আউটলুক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে সোনার দামে প্রায় ৩৭% পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে, তবে ২০২৭ সালে প্রায় ৮.৫% পতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সোনার গড় মূল্য প্রায় ৪,৭০০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। ভারতীয় মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ১.৪৪ লক্ষ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম হতে পারে।

রিপোর্টে সোনার দামের বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কিত পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। Strait of Hormuz-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিরতা তেল ও পণ্যের সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনাকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করেন।

নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সরিয়ে সোনার মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করেন, যার ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংক রিপোর্টে ২০২৬ সালে সোনার দাম ৪,৭০০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছানোর পূর্বাভাস, ২০২৭ সালে পতনের সম্ভাবনা

স্পেকুলেটিভ বিনিয়োগ: স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ ও বাজারে সट्टাবাজি দামের ওঠানামা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে সোনার গড় মূল্য প্রায় ৪,৩০০ ডলার প্রতি আউন্সে নেমে আসতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় এটি প্রায় ১.৩১ লক্ষ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম হতে পারে।

বিভিন্ন কারণে ২০২৭ সালে সোনার দাম কমতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুদের হার বৃদ্ধি: প্রধান অর্থনীতিগুলি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ালে সোনা ধারণের খরচ বাড়ে, ফলে বিনিয়োগকারীরা অন্য বিকল্পে যেতে পারেন।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস: আন্তর্জাতিক সংঘাত কমলে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা হ্রাস পেতে পারে।

ডলারের শক্তিশালী হওয়া: মার্কিন ডলার শক্তিশালী হলে সোনার দাম কমতে পারে, কারণ সোনার মূল্য ডলারে নির্ধারিত হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে COMEX-এ জুন ফিউচার প্রায় ৪,৬৩১ ডলার প্রতি আউন্সে লেনদেন হচ্ছে। ভারতে Multi Commodity Exchange of India (MCX)-এ জুন চুক্তি প্রায় ১,৫১,০০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম স্তরে লেনদেন করছে।

 

Leave a comment