২০৩০ সালে ১০ গ্রাম সোনার দাম ২.৬০ লক্ষ টাকা হতে পারে, পূর্বাভাস একাধিক রিপোর্টে

২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১.৬২ লক্ষ থেকে ২.৬০ লক্ষ টাকা হতে পারে বলে পূর্বাভাস Lemonn ও PrimeXBT-র রিপোর্টে। ২০২৬ সালে সোনা কিনলে ভবিষ্যতে কতটা দাম বাড়তে পারে, জানুন বিস্তারিত।

ধনতেরাসে সোনা কেনার সময় অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, ২০৩০ সাল পর্যন্ত সোনার দাম কতটা বাড়তে পারে। বিভিন্ন রিপোর্টে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.৬২ লক্ষ টাকা থেকে ২.৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছনোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী দিনে সোনার প্রকৃত দাম একাধিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

ধনতেরাস উপলক্ষে শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দেশজুড়ে সোনা কেনার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এদিন ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৪৪ লক্ষ টাকার কাছাকাছি ছিল। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৩২ লক্ষ টাকার স্তরে লেনদেন করছিল।

তবে বিভিন্ন শহর এবং গয়না বিক্রেতার কাছে সোনার দামে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। এছাড়া সোনার গয়না কেনার ক্ষেত্রে GST এবং মেকিং চার্জও দিতে হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামে একাধিকবার ওঠানামা দেখা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে সোনার প্রতি মানুষের আগ্রহ বজায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, বর্তমানে প্রায় ১.৪৪ লক্ষ টাকায় পাওয়া ১০ গ্রাম সোনার দাম ২০৩০ সালের মধ্যে কত হতে পারে।

আগামী কয়েক বছরে সোনার দাম কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়ে বাজারে একাধিক পূর্বাভাস রয়েছে। কয়েকটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে সোনার দাম বর্তমান স্তরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম Lemonn তাদের ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের একটি রিপোর্টে জানিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে পৌঁছতে পারে।

২০৩০ সালে ১০ গ্রাম সোনার দাম ২.৬০ লক্ষ টাকা হতে পারে, পূর্বাভাস একাধিক রিপোর্টে

অন্যদিকে, PrimeXBT-ও সোনার দাম বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ২ লক্ষ ১১ হাজার ৪০০ টাকায় পৌঁছতে পারে। রিপোর্টে সোনার সম্ভাব্য দামের পরিসর ১ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার মধ্যেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই সমস্ত পরিসংখ্যানই পূর্বাভাস। আগামী চার বছর পর সোনার প্রকৃত বাজারদর এই অনুমানের সঙ্গে মিলবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।

সোনার দামের ওপর ডলারের মূল্য, সুদের হার এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রভাব পড়ে। ফলে ভবিষ্যতে সোনার দাম বাড়তে পারে, আবার কমেও যেতে পারে।

ধরা যাক, আপনি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে ২৪ ক্যারেটের ১০ গ্রাম সোনা ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকায় কিনলেন। এবার ২০৩০ সালে সোনার দাম বিভিন্ন রিপোর্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী কত হতে পারে, সেই হিসাব দেখা যাক।

যদি ২০৩০ সালে ১০ গ্রাম সোনার দাম বেড়ে ১ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা হয়, তাহলে আপনার কেনা সোনার বাজারমূল্য ১৮ হাজার টাকা বাড়বে। অর্থাৎ, চার বছরে মোট মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ হবে প্রায় ১২.৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, সোনার দাম ২ লক্ষ ১১ হাজার ৪০০ টাকায় পৌঁছলে আপনার কেনা ১০ গ্রাম সোনার বাজারমূল্য ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা বেড়ে যাবে। সেই হিসাবে মোট মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ হবে প্রায় ৪৬.৮ শতাংশ।

একইভাবে, ২০৩০ সালে ১০ গ্রাম সোনার দাম ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় পৌঁছলে আপনার কেনা সোনার মূল্য ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা বাড়বে। অর্থাৎ, মোট মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৮০.৬ শতাংশ।

তবে এই হিসাব শুধুমাত্র সোনা কেনার দাম এবং পরবর্তী বাজারদরের পার্থক্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর মধ্যে GST, গয়না তৈরির মেকিং চার্জ এবং সোনা বিক্রির সময় প্রযোজ্য কোনও কাটছাঁটের হিসাব অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে বাস্তবে পাওয়া অর্থের পরিমাণ এই হিসাবের তুলনায় কম হতে পারে।

ধরা যাক, আপনি বর্তমানে ১ লক্ষ টাকার সোনা কিনলেন। চার বছর পর যদি সোনার দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে আপনার কেনা সোনার বাজারমূল্য বেড়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হবে। অর্থাৎ, মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ হবে ৫০ হাজার টাকা।

একইভাবে, আপনি যদি ২ লক্ষ টাকার সোনা কেনেন এবং চার বছরে তার দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেই সোনার বাজারমূল্য বেড়ে ৩ লক্ষ টাকা হতে পারে।

তবে সোনার দাম সবসময় বাড়বে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ১ লক্ষ টাকার সোনা কেনার পর কয়েক বছর ধরে তার দাম ১০ শতাংশ কমে গেলে, সেই সোনার বাজারমূল্য কমে ৯০ হাজার টাকা হবে।

 

Leave a comment